
কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর : এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দশক পর ক্যারিবিয়ানরা বিশ্বকাপের নবম আসরের আয়োজক হল। আইসিসির পূর্ণ সদস্যের ১০ দেশ ছাড়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাধ্যমে ২০০৭ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল কেনিয়া, কানাডা, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও বারমুডা। প্রথমবারের মত ১৬টি দেশে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিয়েছিলেন ২৪টি ম্যাচে।
গ্রুপ "এ" থেকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, অজিদের কাছে হারলেও স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে অজিদের সঙ্গী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
গ্রুপ 'বি" অংশগ্রহণকারী দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত, বাংলাদেশ ও বারমুডা। অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। আর গ্রুপ 'বি 'তে ঘটলো একটা বড় অঘটন। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে চোখের জলে ভাসিয়ে সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
গ্রুপ "সি" থেকে কেনিয়া ও কানাডাকে পেছনে ফেলে অগ্রসর হয় নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। এদিকে অঘটন ঘটেছে গ্রুপ 'ডি'তেও। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নেয়া আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বসে পাকিস্তান। সুপার এইট নিশ্চিত করে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। এখানেই শেষ নয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ক্ষত ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হোটেল রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া পায় পাকিস্তানের কোচ বব উলমারকে। রহস্যময় মৃত্যু। প্রাথমিক তদন্তে খুন বলে দাবি করলেও দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে উলমারের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলেই ঘোষণা করে ক্যারিবিয়ান পুলিশ।
সুপার এইটে অনুষ্ঠিত হয় ২৪টি ম্যাচ। অপরাজিত হয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমি ফাইনালে টিকিট কাটে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনালে অন্যদেশ গুলো হল শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শক্তিশালী প্রোটিয়াদের হারালেও অন্য কোন ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা।
সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের প্রথম টিকিট কাটে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে থমকে দিয়ে ফাইনালে যায় অস্ট্রেলিয়া।
২৪ এপ্রিল কিংস্টন ওভালে ফাইনালে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে গিলক্রিস্টের রেকর্ড ঝড়ো ১৪৯ রানের উপর ভর করে ২৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে, সাঙ্গাকার ও মাহেলা জুটির ১১৬ রানের উপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে লঙ্কানরা। কিন্তু আলোক স্বল্পতার কারণে তিন ওভার আগে খেলা স্থগিত হলে জয় উৎসব শুরু করে অজিরা। পরবর্তীতে দু'দলের অধিনায়কের সম্মতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় অস্ট্রেলিয়াকে। যা বিশ্বকাপে অজিদের ৪র্থ শিরোপা।
