
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় উদ্বেগ বাড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরেই বিভিন্ন দেশে বিমান পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটছে, ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বহু সেলেব্রিটিও। এমন পরিস্থিতিতেই কয়েকদিন ধরে দুবাইয়ে আটকে ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত ও তাঁর মেয়ে সাইরা।
মেয়ের টেনিস প্রশিক্ষণের জন্যই মূলত দুবাইয়ে গিয়েছিলেন লারা দত্ত। কিন্তু হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠায় সেখানে আটকে পড়েন মা-মেয়ে। চারদিকে বোমাবর্ষণের আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই কয়েকদিন কাটাতে হয় তাঁদের। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথাও তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী।

শেষমেশ ঝুঁকি নিয়েই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন লারা। তিনি জানান, দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের কাছাকাছি জায়গায় তাঁরা ছিলেন, যেখান থেকে খুব কাছেই হামলার ঘটনা ঘটছিল। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ফুজাইরাহ পৌঁছে সেখান থেকে বিমানে ভারতে ফেরেন তিনি ও তাঁর ১৪ বছরের মেয়ে। লারা আরও জানান, যুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী মহেশ ভূপতি লন্ডনে ছিলেন। তাই দুবাইয়ে মা-মেয়ে একাই ছিলেন। তবে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রশাসন যেভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, তার প্রশংসাও করেন অভিনেত্রী।
দেশে ফিরে লারা দত্ত বলেন, “আমরা জেবেল আলি বন্দর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে থাকছিলাম। যেখান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বোমাবর্ষণ হচ্ছে। তাই খানিক ঝুঁকি নিয়েই আমার স্বামী এবং পরিবারের কাছে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেই বিপজ্জনক এলাকা থেকে দু’ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ফুজাইরাহ পৌঁছই। তার ঠিক আগের দিনই ফুজাইরাহ বন্দর এবং সেখানকার তৈল শোধনাগারে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অক্ষয় কুমার ফোন করে খোঁজ নিলে আমি ওঁকে রসিকতা করে বললাম, মনে হচ্ছে যেন আমি ‘এয়ারলিফট ২’ সিনেমায় অভিনয় করছি।” যুদ্ধের আতঙ্ক কাটিয়ে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অভিনেত্রী।
