
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় এক মাসের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং প্রার্থনার পর অবশেষে স্বস্তির খবর। বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খান সুস্থ হয়ে ফিরলেন নিজের বাড়ি। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ তিনি বান্দ্রা পশ্চিমের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। তাঁর এই ঘরে ফেরার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে গোটা চলচ্চিত্র জগৎ থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ অনুরাগী। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যার কারণে ৯০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছিল। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বলিউডে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ফলে ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।
চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রতিনিয়ত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, সেলিম খান চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিয়েছেন এবং গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এই উন্নতির ভিত্তিতেই চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলা যাচ্ছে না, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর পরিবার সবসময় পাশে থেকেছে। বিশেষ করে তাঁর বড় ছেলে, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সলমন খান, প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালে এসে বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। এমনকি নিজের কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি শুটিং স্থগিত রেখে বারবার হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন বলে জানা যায়। একইভাবে আরবাজ খান এবং সোহেল খান-কেও একাধিকবার হাসপাতালে দেখা গেছে, যা খান পরিবারের ঐক্য এবং পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ তুলে ধরেছে। সেলিম খানের অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সেলিম সাহেব’-এর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনার ঢল নামে। যদিও এই সময় খান পরিবার যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, তবুও সংবাদমাধ্যমের নজর এড়ানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট দেওয়া হচ্ছিল, যাতে অনুরাগীদের উদ্বেগ কিছুটা কমে।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে কড়া বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আপাতত বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলবে এবং বাইরের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বয়সজনিত কারণে তাঁর খাদ্যতালিকাতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
বলিউডে সেলিম খানের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর কলম থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’ এবং ‘জঞ্জির’-এর মতো একাধিক কালজয়ী সিনেমা, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবরে বি-টাউনের সহকর্মীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা থেকে পরিচালক—সকলেই সমাজমাধ্যমে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হল, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আবার নিজের বাড়িতে ফিরেছেন এই কিংবদন্তি। সলমন খানের অনুরাগীদের কাছেও এটি এক আবেগঘন মুহূর্ত, কারণ তাঁদের প্রিয় ‘ভাইজান’-এর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, তাঁর বাবা, আবারও সুস্থতার পথে হাঁটছেন। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা—সেলিম খান যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
