
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঘুমের মধ্যেই সব শেষ। অনুরাগীরা এখনও যেন বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না যে, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত প্রশান্ত তামাং আর নেই। সুস্থ-স্বাভাবিক এক মানুষের এমন আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না অসংখ্য ভক্ত। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে কোনও রহস্য নেই বলেই স্পষ্ট করে জানালেন প্রয়াত শিল্পীর স্ত্রী মার্থা তামাং।
সংবাদমাধ্যমের সামনে মার্থা বলেন, “এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। তিনি ঘুমের মধ্যেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আমি সেই সময় ঠিক তাঁর পাশেই ছিলাম।” প্রত্যেক অনুরাগীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সকলকে ধন্যবাদ। গোটা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমি ফোন পেয়েছি। চেনা, অচেনা অনেকের কাছ থেকেই ফোন পেয়েছি। প্রশান্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকে ফুল দিয়েছেন। আমার বাড়ির বাইরে জড়ো হয়েছেন অনেকে। তবে সকলকে জানাই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হলে হাসপাতালে আসতে হবে।” মার্থার কথায়, “শুধু আজ নয়। যেভাবে এতদিন তাঁকে মেসেজ, রিল, গান শেয়ার করে সমর্থন করেছেন আপনারা তাতে আমি সত্যি আপ্লুত। দয়া করে ওঁকে এভাবেই ভালোবাসবেন। সত্যি ওঁ মহান মানুষ।” প্রশান্ত ঘরনির কাতর আর্জি, “ওঁর আত্মা শান্তি পাক। শুধু এটুকুই কামনা করুন সকলে।”

১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে দার্জিলিংয়ে জন্ম প্রশান্ত তামাংয়ের। পাহাড়ি জীবনের মধ্যেই ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি হয় তাঁর। পরে পুলিশে চাকরি করলেও মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে পৌঁছে যান তিনি এবং ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গোটা দেশের নজর কেড়ে নেন। এরপরই তাঁকে নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। এক রেডিও জকি প্রশান্তকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বসেন। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের প্রবল সমর্থক প্রশান্তকে নিয়ে এই মন্তব্যের রেশ আছড়ে পড়ে দার্জিলিং পাহাড়ে। শুরু হয় অশান্তি। সেসময় পাহাড় প্রশাসনের অলিখিত রাশ ছিল GNLF নেতা তথা সেখানকার প্রবাদপ্রতিম নেতা সুবাস ঘিসিং। তাঁর প্রতিরোধী হিসেবে ধীরে ধীরে উঠে আসেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। কার্যত দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের রাজনৈতিক চিত্রই বদলে গিয়েছিল এই প্রশান্তকে ঘিরেই। তবে সেই বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলেও নিজের সঙ্গীতজীবনকে এগিয়ে নিয়ে যান প্রশান্ত। বলিউডে প্লেব্যাক, নেপালি চলচ্চিত্র জগতে কাজ এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
দেশের নানা প্রান্তে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতেন নিজের দার্জিলিংয়ের বাড়িতেই—যেখানে তাঁর স্ত্রী ও কন্যা রয়েছেন। সোমবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছয় তাঁর কফিনবন্দি দেহ। স্বামীর নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্থা। পাহাড় জুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
