
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীপাবলির আলোর উৎসবের মাঝেও মন ভালো নেই অভিনেতা গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজার। একসময় দীপাবলি এলেই আত্মীয়স্বজন, সন্তান-সন্ততি এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনন্দে মুখর হয়ে উঠত তাঁদের বাড়ি। উৎসবের দিনগুলিতে বাড়িজুড়ে থাকত হইচই ও জমজমাট পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে সেই চেনা ছবি। এখন আর আগের মতো পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা নেই বাড়িতে। পুরনো দিনের সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলির কথা মনে করেই আবেগে ভেসেছেন সুনীতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীপাবলি উদ্যাপনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলির কথা তুলে ধরেন তিনি।
একসময় দীপাবলি এলেই আত্মীয়স্বজন, ভাইপো-ভাইঝি এবং সন্তানদের নিয়ে জমজমাট হয়ে উঠত সুনীতার বাড়ি। শাশুড়িও থাকতেন তাঁদের সঙ্গে। কিন্তু এখন সেই ছবি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সুনীতার কথায়, “আগে দীপাবলির সময় আমার বাড়ি ভরে থাকত। শাশুড়ি থাকতেন, ভাইপো-ভাইঝি এবং বাচ্চারা থাকত। বাড়িতে কত লোকজনের আনাগোনা ছিল! কিন্তু এখন ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গিয়েছে, শাশুড়িও আর নেই। তাই বাড়িটা এখন কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। আমি তো আর সন্তানদের বলতে পারি না যে, বাড়িতেই থাকতে হবে। প্রত্যেকেই নিজের নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। কাউকে বিরক্ত করাও যায় না।” তবে পরিজনের অভাব অনুভব করলেও নিজের মতো করে উৎসব উদ্যাপন করতে শিখে গিয়েছেন সুনীতা। তিনি জানিয়েছেন, এখন একাই নিজের আনন্দের ব্যবস্থা করে নেন। সুনীতার কথায়, “এখন আমি একাই নিজের আনন্দের ব্যবস্থা করে নিই। বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাই, মিষ্টি খাই। ডায়াবিটিস রয়েছে, তাই বুঝেশুনে খেতে হয়। তবে নিজের মতো করে দীপাবলি উপভোগ করি।”

সাক্ষাৎকারে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নিজের প্রথম দীপাবলি উদ্যাপনের স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন সুনীতা। জানিয়েছেন, সেই বিশেষ দিনে শাশুড়ির কাছ থেকে উপহার হিসাবে একটি সুন্দর শাড়ি এবং সোনার গয়না পেয়েছিলেন তিনি। গোবিন্দও তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। তবে স্বামীর উপহার দেওয়ার অভ্যাস নিয়ে মজার ছলেই খোঁচা দিতে ছাড়েননি সুনীতা। তিনি বলেন, “এখন গোবিন্দ একটু কৃপণ হয়ে গিয়েছে। বিয়েটা তো অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছে! এখন তো ওর আরও বেশি করে উপহার দেওয়া উচিত। বাড়ির লক্ষ্মীকে উপহার দিলে তো আরও লক্ষ্মী আসে। তাই নিজের বাড়ির লক্ষ্মীকে উপহার দেওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১১ মে গোপনে বিয়ে করেছিলেন গোবিন্দ ও সুনীতা। বলিউডে নিজের কেরিয়ার প্রতিষ্ঠা করার সময় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনতে চাননি অভিনেতা। ১৯৮৯ সালে তাঁদের মেয়ে টিনার জন্মের পর প্রকাশ্যে আসে সেই খবর। পরে তাঁদের পরিবারে আসে ছেলে যশবর্ধনও।
