
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাক মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষ হলেও আপাতত রায় ঘোষণা করল না শীর্ষ আদালত। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছে। গত জানুয়ারিতে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশির সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া এবং এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে মূলত তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হবে, নাকি বিষয়টি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নেই রায় স্থগিত রাখে আদালত।
গত মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবাদল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গত আগস্ট মাসে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ পছন্দের তদন্তকারী সংস্থাকে বাছাইয়ের বিষয়টি রাজ্যের উপর ছাড়া যায় কি না, তা জানতে চাইলে ইডির আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সূর্যপ্রকাশ ভি রাজু তাতে অসম্মতি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিলেন, রাজ্য পুলিশের আস্থা না থাকার কথাও। সেই শুনানিপর্বে মমতার পক্ষের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানিয়েছিলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলেছে। তাই সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কে তদন্ত করবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক নয়ছয়ের মামলার তদন্তে কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইফে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তালঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি যান বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় ইডি ও তৃণমূলের তরফে দুটি আলাদা মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতে ইডি জানিয়েছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নথি কেড়ে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলায় তৃণমূলের দাবি করে, ভোটের আগে ইডির অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টে মামলার মুলতুবি করে দিয়েছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এরপরই ইডির তরফে গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়। সেই মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান আপাতত স্থগিত রাখল শীর্ষ আদালত।
