CM Suvendu Adhikari: ‘কাজ বন্ধ করলে জেলে ঢোকাব’, ধর্মঘট ও শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  কারখানার কাজ বন্ধ করে গেটে অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘কমিউনিস্ট’দের উদ্দেশে এই কড়া বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, কারখানার উৎপাদন ও কাজকর্ম ব্যাহত করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা কাজ বন্ধ করবেন তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেব। জেলে ঢোকাব। অনেকদিন জেলে থাকবেন।” পাশাপাশি শ্রমিক বা কর্মীদের কোনও অভিযোগ কিংবা সমস্যা থাকলে কারখানার কাজে বাধা না দিয়ে সরাসরি লেবার কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাম আমলে ও তৃণমূল আমলে বাংলায় শিল্পের বেহাল অবস্থা ছিল। তাদের শিল্পনীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতেন না বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। তাই তৃণমূল ও বামেদের ভুল সুধরে এবার লগ্নি টানতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে কল-কারখানায় ‘ধর্মঘট’ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু। কল-কারখানায় যে কোনও ইস্যুতেই কাজ বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “এসব চলবে না। কমিউনিস্টদের বলে দেবেন, যাঁরা কাজ বন্ধ করবেন তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেব। জেলে ঢোকাব। অনেকদিন জেলে থাকবেন। লেবার কমিশন আছে। সেখানে যান। সব হবে, কাজ বন্ধ হবে না।” 

উল্লেখ্য, শিল্প-খরা কাটাতে তৃণমূল আমলের ভুলভ্রান্তি শুধরে রাজ্যের নতুন শিল্প নীতি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ সম্বলিত একটি বই উদ্বোধন করেন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-সহ অনেকে। নয়া নীতিতে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য নতুন জমি নীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই জমিজটেই আটকে গিয়েছিল বহু শিল্পস্থাপন। তা এবার কাটতে চলেছে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করেছে শুভেন্দু সরকার। মূলত লগ্নি ও ইনসেনটিভ নির্ভর জমিনীতি তৈরি করেছে সরকার। দক্ষ শ্রমিকদের কাজে লাগানো, বিনিয়োগে বাড়তি ইনসেনটিভ-সহ একাধিক বিষয়ে নিয়মনীতি শিথিল হয়েছে। প্রায় পাঁচ দশক পর কেন্দ্র ও রাজ্য হাতে হাত ধরে শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক কাজ হতে চলেছে। নতুন শিল্পনীতিতে খুশি রাজ্যের শিল্পপতিরা। এই আবহে যে কোনও ধর্মঘট উন্নয়নের গতিকে বাধা দিতে পারে। তাই কাজ বন্ধের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…