
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে রাজ্যে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি এল। সমবায় দপ্তরে নিয়োগ নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পরীক্ষা নেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দু’বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এদিন ১৪৯ জন সমবায় সমিতির পরিদর্শকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে আগের সরকার কোনও কাজ করেনি। তৃণমূল আমলে সমবায় ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসে। রাজ্যে সমবায় দপ্তরে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। মেধার ভিত্তিতে সেই সুযোগ দেবে নতুন সরকার। আগের সরকারের আমলে পরীক্ষা হলেও নিয়োগ হত না। জনগণের করের টাকা সুপ্রিম কোর্টে খরচ করত বিগত সরকার। তাঁর অভিযোগ, “বিগত সরকার ওবিসি জট পাকিয়েছিল। আমরা জট কাটাচ্ছি।”
রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুলিশের প্রায় ৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকার নির্বাচিত হলে পুলিশে নিয়োগ হত না। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে ১২ হাজার পুলিশ নিয়োগ হবে। অন্যদিকে সমবায় দপ্তরেও ব্যাপক নিয়োগ হতে চলেছে। ২০০-র বেশি কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর নিয়োগ হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকার যে ভুল করেছিল তা এই সরকার করবে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ওবিসি শংসাপত্র প্রদান ও তালিকাভুক্তি ঘিরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এই বিতর্কের জেরে ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের প্রভাব পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকে একাধিক নিয়োগ। ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিশেষ উদ্যোগী হয় বিজেপি সরকার। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ওবিসি সংক্রান্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে আইনি জটিলতা কাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পথ প্রশস্ত হয়। তবে এই গোটা বিষয়টি ঘিরে আদালতের নির্দেশ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
