
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক কার্যপদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতাপন্থী আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে নিয়োগ এবং জ্ঞানেশ কুমারের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে আইনি লড়াই কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন আইনি কাঠামোয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমার আসার পর থেকেই সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘিরে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা থাকেনি। সেখানে লেখা হয়, কমিশনের বাকি দুই সদস্য— সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশিকে অন্ধকারে রেখেই একতরফা নির্দেশ জারি করছেন জ্ঞানেশ। অন্য দুই কমিশনারের একাধিক লিখিত আপত্তিও তিনি উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় ‘ইন্ডিয়া’।
এরই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া আইনি ধাক্কা দিয়েছে মমতা তৃণমূল। রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আগেই একটি মামলা বিচারাধীন ছিল। সোমবার মমতা তৃণমূলের তরফে দোলা সেন ও আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা তুলে নতুন আবেদনটি দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত পুরনো মামলার সঙ্গেই মমতার শিবিরের এই নতুন আর্জিটি যুক্ত করে চলতি সপ্তাহে একসঙ্গে যৌথ শুনানি গ্রহণ করা হবে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তা ও সংসদেও আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশালাকার প্রতিবাদ মিছিল ও গণ-জমায়েতের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’য় থাকা দলগুলি। একই সঙ্গে আসন্ন অধিবেশনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার প্রস্তুতিও সারছে তারা। অন্যদিকে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে— সেই নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠকের ডাক দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টেয় নতুন দিল্লির নির্বাচন সদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীকে এক ছাদের তলায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে এর আগে একাধিকবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনলেও কোনও চূড়ান্ত মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি কমিশন। এমনকি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে সাময়িকভাবে দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও নতুন নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল। ৩০ অক্টোবরের এই বৈঠকেই জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
