
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি হচ্ছে। এই তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে তাল মেলাতে সামান্য সময়ের বিরতিও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ৭-৮ মাস পিছিয়ে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের নিজস্ব তথ্যভিত্তিক পরিকাঠামোকে সচল ও সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন কম্পিউটেশন এবং অ্যালগরিদমের ধারাবাহিক কার্যকারিতা। দেশের জিডিপি, জিএসটি সংগ্রহ, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো, নির্দিষ্ট বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ প্রভাব কিংবা সুদের হার বৃদ্ধি ও হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মূল্যায়ন নির্ভর করে নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণ ও নিরন্তর গাণিতিক হিসাবের উপর। অর্থনীতির এই হিসাব-নিকাশে কোনও রকম বিরতি বা আপসের সুযোগ নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান এস মহেন্দ্র দেব। তাঁর মতে, দ্রুত উন্নয়নশীল ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নিরবচ্ছিন্ন তথ্যপ্রবাহ ও বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই তথ্যের নিরিখেই মহেন্দ্র দেব জানিয়েছেন, বিশ্বের টালমাটাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও গত তিন বছরে প্রায় ৭.৯ শতাংশ ডিজিপির পরিসংখ্যান বজায় রয়েছে ভারতবর্ষে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক মানচিত্রে ঈর্ষনীয় বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার আইএসআইয়ে সরকারি পরিসংখ্যানের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে আয়োজিত কনক্লেভে যোগ দিতে শহরে এসেছিলেন তিনি। ‘ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল স্ট্যাটিস্টিকস কনক্লেভ অন থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড এমপিরিক্যাল ইস্যুজ’– শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও জানান, সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং নীতিনির্ধারণে তার কার্যকর প্রয়োগের জন্য নিরবচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া অ্যালগরিদমের গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেখানে কোনও আপস করবে না ভারত সরকার। এদিন অনুষ্ঠানে ছিলেন আইএসআইয়ের অধিকর্তা অধ্যাপক অমর্ত্য কুমার দত্ত-সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। প্রথম দিন আলোচনা হয়েছে ডাটা সায়েন্সের ভূমিকা নিয়ে। দুদিনের এই কনক্লেভে আজ, বুধবার আলোচনা হওয়ার কথা বিশ্বব্যাঙ্ক-সহ দেশি-বিদেশি সংস্থার কর্তাদের নিয়ে।
