
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় কোনওভাবেই আপস করবে না ভারত। মঙ্গলবার দিল্লির কিরোরি মাল কলেজের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারতের দুগ্ধশিল্পকে বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড় করানো হয়নি। ভবিষ্যতেও এই ক্ষেত্রকে বিদেশি প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। একইসঙ্গে জিনগতভাবে পরিবর্তিত বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রেও ভারত অনুমতি দেবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
গোয়েলের বক্তব্য, কৃষি, দুগ্ধ এবং সামুদ্রিক পণ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রগুলির সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার। বিদেশে পনির তৈরির ক্ষেত্রে বাছুরের দেহ থেকে সংগৃহীত রেনেট ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যথাযথ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক পণ্য এবং রত্ন ও অলংকার শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে ভারত। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও চিনের মতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের শুল্ক সুবিধা বাড়ানোই লক্ষ্য। গোয়েলের দাবি, বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে ভারতের। সেই তালিকায় রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি। তবে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা বহুদূর অসগ্রসর হলেও সেখানে মূল বাধা হয়ে উঠেছে কৃষিজ পণ্য এবং দুগ্ধ শিল্প। আমেরিকা চায় ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের বাজার ধরতে। তবে ভারতের আশঙ্কা, এর জেরে দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ডামাডোলের মাঝেই এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
