
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস—দুই শিবিরকেই একসঙ্গে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিকবার সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকাল এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গে তাঁর বার্তা ছিল, তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে হবে এবং বামেদেরও আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। সোমবার তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন পার্টি অফিসের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানেও সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি শুভেন্দু। বক্তব্যে একযোগে আক্রমণ করেন রাজ্যের দুই প্রাক্তন শাসকদলকে। পাশাপাশি ব্রাজিলে বামপন্থীদের নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর আরও অভিযোগ, ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির তমলুক সাংগঠনিক জেলার দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপূজা কর্মসূচি উপলক্ষে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকের কাকগাছিয়াতে প্রায় সাড়ে তেত্রিশ ডেসিমেল জমিতে হবে বড়মাপের পার্টি অফিস। আজ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈদিক রীতি মেনে হোমযজ্ঞ হয়। সঙ্গে ছিলেন জেলা সংগঠনের নেতারা, ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা-সহ অনেকে। এই কর্মসূচি সেরে বেরিয়ে শুভেন্দু একযোগে বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘‘তৃণমূল তো গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যটাকে গ্রেটার বাংলাদেশ করার চেষ্টা করেছিল। আর তার আগে ৩৪ বছর যারা ছিল, সেই বাম নেতাদের বাম-জেঠা-খুড়োরা সবাই তো ওপার থেকে এসেছে। সকাল থেকে আজ ওরা ব্রাজিলে জিতেছে বলে লাফাচ্ছে। এদের বাড়িতে কি আর স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী হাজরার ছবি পাবেন? পাবেন না। ওখানে চে গুয়েভারাদের ছবি থাকে।”
এরপরই হলদিয়া পুরসভার ভোটে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কোনও ভোট না পায়, একদম যাতে শূন্য হয়ে যায় সেই আবেদন করলেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী দিনে হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন আছে। আমি দু’একদিনের মধ্যে বসব। পুরো জেলার কর্মীরা একদম ঝাঁপিয়ে পড়বেন পুরো শূন্য করে দিতে হবে।” অর্থাৎ কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া আর যাবে না। যেভাবেই হোক বিজেপিকে জেতাতে হবে। তিনি এও বলেন, “তিরিশটি আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। যাতে আর ক্ষতি না করতে পারে…।” সেই কারণেই মমতাকে শূন্য করে দেওয়ার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর। এর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকুন, যাতে দিমাগী নকশাল, টুকরো টুকরো গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী এবং আরশোলা-ছারপোকারা কোনও ভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে বংশবিস্তার করতে না পারে।"
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সদ্য সমাপ্ত দুর্গোৎসবের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বছর রাজ্যজুড়ে মোট ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "চোরবাগানের এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় ১৯ জন সহনাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছিলেন। আমরা ওই ২৫ জন আহত মানুষকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেছি। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়েছি এবং তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছি।"
রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে শুভেন্দু জানান যে, এই গভীর দুঃখ ও বেদনার মধ্যেও প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় রাজ্যে ৬৬ হাজার সফল পুজো করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি কোনও সংস্থাকে আদালতের দ্বারস্থ না করিয়েই এ বছর পূর্বের তুলনার নতুন করে প্রায় ১৩ হাজার পুজোকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে তিনি দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেন যে, বর্তমান সরকার সর্বদাই জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং সনাতনী ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাবে।
