
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পকে নতুন দিশা দেখাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গঠিত হল একটি নতুন উপদেষ্টা কমিটি। বুধবার রাতে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টলিউডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করবে। সম্প্রতি নবান্নে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলা বিনোদন জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতেই গঠিত হয়েছে এই নতুন উপদেষ্টামণ্ডলী।
কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি। সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় (হিরণ), যিশু সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, মহেন্দ্র সোনি, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, সানি ঘোষ রায়-সহ আরও অনেকে। সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে দেব এবং হিরণের একসঙ্গে এই কমিটিতে কাজ করার বিষয়টি। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর প্রতিনিধিত্ব করলেও বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে তাঁদের একসঙ্গে দায়িত্ব নেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এই প্রসঙ্গে হিরণ জানিয়েছেন, “কমিটিতে এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও ছিলেন। কীভাবে সৌজন্যের রাজনীতি করতে হয়, এটা তাঁদের শেখা উচিত। রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে মানুষের উন্নয়ন।” বিজেপি বিধায়কের এহেন মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি দেবকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বললেন? কারণ রাজনীতির পিচে তিনি ‘সৌজন্যের পোস্টার বয়’ বলেই পরিচিত।

উল্লেখ্য, অতীতে নির্বাচনী রাজনীতিতে দেব ও হিরণ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যের ছবি বহুবার সামনে এসেছে। তাই নতুন এই উপদেষ্টা কমিটিতে তাঁদের যুগল উপস্থিতি টলিউডে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার, রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এই নতুন কমিটি বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে আপাতত দেব-হিরণের এই নতুন সমীকরণ ঘিরে বিনোদন ও রাজনৈতিক দুই মহলেই কৌতূহল তুঙ্গে।
