
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকে ‘আনন্দী’ চরিত্রে অভিনয় করে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন জামশেদপুরের প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর সেই চরিত্র আজও টেলিদর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। কিন্তু ২০১৬ সালে মুম্বইয়ের গোরেগাঁওয়ের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অভিনেত্রীর দেহ। গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁকে পাওয়া গিয়েছিল। প্রত্যুষার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অভিনেত্রীর তৎকালীন প্রেমিক রাহুল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। সেই মামলাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলার পর প্রায় এক দশক পরে এবার রায় দিল বম্বে হাই কোর্ট। ফলে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সেই পুরনো মামলা।
২০১৬ সালে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বান্দ্রা নগর পুলিশ প্রেমিক রাহুলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মারধর এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছিল। রাহুলের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। যার জেরে প্রথমটা আটক হলেও পরে বম্বে হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন রাহুল। ২০১৮ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দেওয়ার পর, তিনি সেশনস কোর্টে জামিনের আবেদন জানান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রাহুলের সেই আবেদন খারিজ হয়। এরপরই রাহুল বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বছর দশেক ধরে সেই মামলা চলার পর শেষমেশ তাঁকে অব্যাহতি দিল আদালত। প্রত্যুষাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল রাহুল রাজের বিরুদ্ধে। তবে রায় দেওয়ার আগে বিচারপতি শিবকুমার ডিগের বেঞ্চ প্রত্যুষা ও রাহুলের শেষ ফোনালাপকেই এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

আদালতে রাহুলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী আবাদ পন্ডা ও শ্রেয়াংশ মিঠারে। তাঁদের যুক্তি, আত্মহত্যার আগে রাহুলের সঙ্গে কথোপকথনে প্রত্যুষা তাঁর মা, বাবা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে নিজের পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছিলেন। সেই কথোপকথনে রাহুল তাঁকে আত্মহত্যা না করার জন্য বোঝানোর চেষ্টাও করেন বলেও দাবি আইনজীবীদের। সব দিক খতিয়ে দেখেই এবার ‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষার আত্মহত্যা মামলায় রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিল কোর্ট।
জামশেদপুরে জন্ম প্রত্যুষার। ২০১০ সালে মুম্বইয়ের টেলিভিশন জগতে নিজের সফর শুরু করেন ‘রক্ত সম্বন্ধ’ নামের সিরিয়ালের মাধ্যমে। তারপর ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কহলাতা হ্যায়’ সিরিয়ালেও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে তুমুল জনপ্রিয়তা পান ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকে আনন্দির চরিত্রে অভিনয় করে। ‘বিগ বস ৭’-এর প্রতিযোগীও ছিলেন প্রত্যুষা। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। মেয়ের মৃত্যুর জন্য তাঁর প্রেমিক রাহুল রাজ সিংকে দায়ী করে বাবা শংকর জানিয়েছিলেন, মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁদের গোটা জীবনটাই পালটে গিয়েছে। একের পর এক শুনানির তারিখ দেওয়া হয়। কিন্তু লাভ কিছু হয় না। উপরন্তু মামলা চালাতে গিয়ে সমস্ত সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গিয়েছে। লোনও নিতে হয়েছে। কিন্তু বিচার মেলেনি। এক কামরার ঘরে কোনওমতে থাকেন সন্তানহারা স্বামী-স্ত্রী। ছোট গল্প লিখে কিছু টাকা রোজগার করেন শংকর। তাঁর স্ত্রী সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চাইল্ড কেয়ারে কাজ করেন। তাতেই কোনও মতে সংসার চলে।
