
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর আঘাতে বঙ্গোপসাগরের তলাতেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি ডুবোজাহাজ পিএনএস গাজি। যাঁরা নবীন প্রজন্মের, তাঁরা সাম্প্রতিক স্যাম বাহাদুরসহ মুজিবুর রহমান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কিছুটা আঁচ পেয়েছেন। বাংলাদেশের ধূমায়িত অগ্নিগহ্বরে সেদেশের মানুষকে পাকিস্তানের অত্যাচারী সেনা শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে সর্বতোভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতের তিন বাহিনী নেমে পড়ে অপারেশন ত্রিশূলে। পাকিস্তান সেই যুদ্ধে পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়। বাংলাদেশ বা সাবেক পূর্ব পাকিস্তান থেকে হাত ওঠায় ইসলামাবাদের সরকার। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত পাকিস্তানের ডুবো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হল বিশাখাপত্তনমের সমুদ্রতল থেকে।
ডুবো জাহাজটির নাম পিএনএস গাজি। পাকিস্তানের হলেও সাবমেরিনটি আসলে আমেরিকার। যার নাম ছিল ইউএসএস ডায়াব্লো। এটি একটি টেঞ্চ শ্রেণির ডুবো জাহাজ। ভারতীয় নৌ-সেনা বিশাখাপত্তনম উপকূল থেকে মাত্র ২-২.৫ কিমি দূরে সমুদ্রতলের ১০০ মিটার গভীর থেকে উদ্ধার করে। নৌবাহিনীর নয়া আমদানি গভীর সমুদ্রে ডুবন্ত বস্তু সন্ধানী যানের সাহায্যে হদিশ মিলেছে পিএনএস গাজির।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এই ডুবো জাহাজ ধ্বংসের সঙ্গেই কোমর ভেঙে যায় ইসলামাবাদ প্রশাসনের। সাবমেরিনে মোট ৯৩ জন পাক সেনা ছিলেন। যার মধ্যে ১১ জন অফিসার এবং ৮২ জন নাবিক ছিলেন। মার্কিন ডুবো জাহাজ পিএনএস গাজিকে পাকিস্তান পাঠিয়েছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তের উপকূল আক্রমণ করতে। কারণ ভারতের বিমানবাহী জাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।
৭১ সালের ১৪ নভেম্বর গাজি করাচি বন্দর থেকে রওনা দেয়। প্রায় ৪৮০০ কিমি জলপথ পাড়ি দিয়ে নিঃসারে এসে পৌঁছায় বিশাখাপত্তনমের কাছে। খবর পেয়ে ভারত আইএনএস রাজপুতকে লড়াই করতে পাঠায়। রাজপুত থেকে সমুদ্র গভীরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানের মতলব বানচাল করে দেওয়া হয়। যদিও পাকিস্তানের দাবি, গাজির ডুবে যাওয়ার কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানি রাজশক্তির ডুবো জাহাজ (আরও-১১০) বিশাখাপত্তনমের কাছে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১৯৪৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর গভীর সমুদ্রে বোমা বিস্ফোরণে জাপানি জাহাজ ধ্বংস হয়।
প্রবীণ নৌ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুটি ডুবো জাহাজই সমুদ্র তলদেশে শুয়ে আছে। দুটির কোনওটিতেই ভারতীয় বাহিনী হাত দেবে না। কারণ দুটি ডুবো জাহাজেই শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা সেখানে চিরঘুমে রয়েছেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার জন্যই জাহাজ দুটি যে অবস্থায় রয়েছে, সেভাবেই থাকবে।
