
নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ : দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় রয়েছেন হরীশ রানা নামে বত্রিশ বছরের এক যুবক। তাঁর মা-বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে হরীশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত হরীশের ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’তে সায় দিয়েছে। বুধবার ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রায় দিয়ে ৩২ বছর বয়সি এক যুবককে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’র (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
২০১৩ সালে একটি বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন হরীশ। তার পর থেকেই তিনি কোমাতে রয়েছেন। চিকিৎসকদের সমস্ত রিপোর্ট বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরেই আদালত হরীশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তার পরে ওই যুবকের অভিভাবকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ১৩ বছর ধরে তিনি স্থায়ীভাবে অচেতন বা পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে ছিলেন। চিকিৎসকদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর অবস্থার উন্নতির কোনও সম্ভাবনা নেই। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এ দিন বলেছে, রোগীর মৃত্যু তাঁর স্বার্থে কি না, তা এই ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়; বরং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আদৌ তাঁর স্বার্থে কি না সেটাই বিবেচনা করা উচিত।
