
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বেশ কিছু এক্স হ্যান্ডেল ও পোস্ট নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতে! ‘সরকারি’ নির্দেশিকা মেনে এই কাজ করতে চলেছে এলন মাস্কের সংস্থা এক্স বা সাবেক টুইটার।ভারত সরকার কিছু নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট এবং পোস্টকে জনতার চোখের আড়াল করার 'প্রশাসনিক নির্দেশ' দিয়েছে। এর অন্যথা হলে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও মাস্কের কোম্পানি এর জবাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এরকমটা করা মেনে নিতে পারছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
এক্স-এর গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনি বাধার জন্য তারা ভারত সরকারের প্রশাসনিক নির্দেশটি প্রকাশ করতে পারছে না। কিন্তু, তারা বিশ্বাস করে যে, এটা প্রকাশ্যে আনাটা স্বচ্ছতার পক্ষে জরুরি। বৃহস্পতিবার প্রায় শেষ রাতে এক্সের তরফে এক বার্তায় একথা জানানো হয়।
গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স টিম ২২ ফেব্রুয়ারি, রাত ১টা ৪ মিনিটে এক্স বার্তায় বলেছে, নির্দেশ মান্য করে আমরা এই অ্যাকাউন্টগুলিকে কেবলমাত্র ভারতের জন্য আটকে রাখছি। যদিও এ ধরনের পদক্ষেপে আমাদের কোনও সায় নেই। আমরা মনে করি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত।
ভারত সরকারের এই প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে এলন মাস্কের কোম্পানি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলে জানিয়েছে। আমাদের নীতি অনুযায়ী ওই এক্স পরিবারে সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েও দিয়েছি।
এটাই প্রথমবার নয়, ২০২১ সালে তৎকালীন ট্যুইটার এবং তাদের প্রাক্তন মালিককেও ভারত সরকার দেশের নিয়ম-আইন মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। সেবারও ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রের নির্দেশাবলির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার হুঁশিয়ারি বলে ব্যাখ্যা করেছিল।
ভারত সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে তোলা বিস্ফোরক অভিযোগের কিছু আগেই নরওয়ের এক এমপি এলন মাস্ককে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নাম প্রস্তাব করেন।
মাস্কের কোম্পানির এই অভিযোগ নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে হইচই পড়ে যাবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কারণ, পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বিরোধী নেতৃত্ব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী থেকে তাবড় নেতাদের ফোনে রাষ্ট্রীয় আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছিল।
এবারও নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট বলতে কাদের অ্যাকাউন্ট তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন দেখা দিয়েছে যে, ভোটের আগে মোদীর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের।
