
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মাসের ২২ তারিখ উদ্বোধন হতে চলেছে অযোধ্যার রামমন্দিরের। এই অনুষ্ঠানে সোনিয়া ছাড়া গান্ধী পরিবারের আর কোনও সদস্য আমন্ত্রন পান নি বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পাঠানোর ক্ষেত্রে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ মাপকাঠি। জানা যাচ্ছে, সেই 'ক্রাইটেরিয়া ম্যাচ' করতে পারেননি রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা। ফলে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি গান্ধী পরিবারের ভাই-বোনকে।
রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তিন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলির সভাপতি অথবা সম মর্যাদার পদাধিকারি, লোকসভা এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা এবং সর্বোপরি ১৯৮৪ ও ১৯৯২ সালে রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাই কেবলমাত্র 'ক্রাইটেরিয়া ম্যাচ' করতে পেরেছেন।
তবে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২২ জানুয়ারির 'রেড কার্পেটে' আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সাধু-সন্ত, শিল্পপতি, সিনেজগতের কলাকুশলী এবং বহু খেলোয়াড়কে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি অলোক কুমার সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যিনি একাধারে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাও। যেহেতু ২০১৪ সালের পর থেকে লোকসভায় কোনও বিরোধী দলনেতা নেই তাই কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতীকেও খুব শীঘ্রই রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ পেয়েছেন BJP-র বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবানি এবং মুরলি মনোহর যোশী।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক মিলিন্দ পারান্দে বলেন, 'ভগবান রাম সর্বত্র বিরাজমান। কোনও ভেদাভেদ করা হচ্ছে না। আমরা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক তরজা চাই না। যারা একটা সময় রামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদেরও রাম মন্দিরে স্বাগত জানাচ্ছি।' তৃণমূল কংগ্রেস এবং CPI ও CPIM-এর পক্ষ থেকে রাম মন্দিরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কট্টর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে তাদের মতামত এক। দুই দলেরই অভিযোগ, রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে ফেলেছে BJP। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'যারা এমনটা বলছেন আদতে তারাই এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছেন।'
