
নিউইয়র্ক ও নয়াদিল্লি, ৯ জুন : রাষ্ট্রসঙ্ঘে আবারও পাকিস্তানকে তুলোধনা করলো ভারত। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ বলেছেন, "নিজের ব্যর্থতার জন্য প্রতিবেশীদের দোষারোপ করা পাকিস্তানের একটি পুরোনো অভ্যাস। বিশ্বকে ধোঁকা দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।" তিনি বলেন, "ভারত ও আফগানিস্তান একে অপরের প্রতিবেশী এবং সভ্যতা-ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সম্পর্ক শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিদ্যমান। আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইতিহাস এখনও আমাদের বর্তমান সম্পর্ককে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছে। আফগানিস্তানের গর্বিত জনগণ এই শতাব্দীতে নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে; তাই সে দেশে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে।"
পি হরিশ বলেছেন, "আফগান জনগণের জন্য ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দেশটির ৩৪টি প্রদেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি উন্নয়ন অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান। আমরা স্বাস্থ্যসেবা, জন-অবকাঠামো এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আফগান জনগণের জন্য অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলোতে আমরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আফগানিস্তান রেড ক্রস সোসাইটির মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার পরিধি আরও জোরদার করছি। গত বছর আফগান মন্ত্রীদের ভারত সফরের ফলে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যাতে আমাদের সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছয়।"
পি হরিশ আরও বলেন, "আমরা আফগান ব্যবসায়ীদেরও সহায়তা করছি শত শত বিনামূল্যে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ভিসা প্রদানের মাধ্যমে; কারণ বাণিজ্যের জন্য চলাচলের পথ আটকে দিয়ে পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া নজিরবিহীন 'বাণিজ্য ও ট্রানজিট-সংক্রান্ত সন্ত্রাস'-এর শিকার হচ্ছেন তাঁরা। দেশে ফিরে আসা মানুষদের বাড়তি বোঝা আফগান অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আফগান জনগণের ওপর যে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে তা লাঘব করতে এবং তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করার লক্ষ্যে—বাসস্থান, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে—আমার দেশ রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আফগান কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।"
এরপরই পাকিস্তানের সমালোচনা করে পি হরিশ বলেন, "ভারত ‘ইউনামা’-র গুরুত্ব ও এর ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধির ওপর জোর দিতে চায় এবং আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত এই সংস্থাটির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, বহুপাক্ষিকতা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতি সমর্থন কোনও ‘আ-লা-কার্ট’ মেনু বা নিজের পছন্দমতো বেছে নেওয়ার বিষয় নয়। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক বিমান হামলার ফলে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং আফগান জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ‘ইউনামা’-র প্রতিবেদনে বর্ণিত বিমান হামলা, আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হত্যাকাণ্ডের (টার্গেটেড কিলিং) ফলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় মহাসচিব যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আমরা তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন-সহ আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে মহাসচিবের আহ্বানের প্রতি আমরা সমর্থন জানাই। এছাড়া, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তদন্তের জন্য ‘ইউনামা’ যে আহ্বান জানিয়েছিল, আমরা তারও সমর্থন করি। হিংসার এই ধরনের বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর এক চরম আঘাত এবং তা এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আফগান ভূখণ্ডে চালানো বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত; কারণ এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।" পি হরিশ পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করে বলেন, "নিজের ব্যর্থতার জন্য প্রতিবেশীদের দোষারোপ করা পাকিস্তানের একটি পুরোনো অভ্যাস। বিশ্বকে ধোঁকা দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।"
