
করিমগঞ্জ (অসম) : সিইউইটি পরীক্ষার কেন্দ্র করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, হাফলং, ডিফু সহ বিভিন্ন জেলা সদরে স্থাপন করা, পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে আধার কার্ডহীনদের সুযোগ প্রদান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাংলা, মণিপুরি সহ অন্যান্য মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষায় তৈরি করা এবং এই পরীক্ষা বিনা মাশুলে আয়োজনের দাবিতে এআইডিএসও–র কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলার এক প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এক স্মারকপত্র প্রদান করেছে।
আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার কেন্দ্রীয়করণের লক্ষ্যে এই পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া এই পরীক্ষার যে সব ছাত্র–বিরোধী ও শিক্ষা–বিরোধী নীতি–নিয়ম রয়েছে তা অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে। এই পরীক্ষার জন্য বরাক উপত্যকায় শুধু শিলচরে একটি মাত্র পরীক্ষা কেন্দ্র থাকার তীব্র বিরোধিতা করে সব জেলা সদরে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গরিব পরীক্ষার্থীরা গাড়ি ভাড়া, হোটেল খরচ সহ অন্যান্য খরচের অর্থ জোগাড় করতে পারবে না।
এছাড়া এই পরীক্ষায় অসমের পরীক্ষার্থীদের শুধু অসমিয়া ও ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে বলে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি যে নির্দেশ জারি করেছে তা পরিবর্তন করে রাজ্যের অন্যান্য মাধ্যম যথাক্রমে বাংলা, হিন্দি, বড়ো, মণিপুরি ইত্যাদিতেও পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাঁদের নিজস্ব মাধ্যমের ভাষায় প্রশ্নপত্র প্রদানের দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনের স্মারকপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘সিইউইটি’ পরীক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা চলবে না। অসমে যেহেতু আধার কার্ড সবার নেই, তাই ছাত্রছাত্রীদের আধার কার্ডের পরিবর্তে অন্যান্য পরিচয় পত্রের মান্যতা দিতে হবে। তাছাড়া এই পরীক্ষার কোনও ফিজ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া চলবে না।
উল্লেখ্য, এই পরীক্ষার জন্য ১৪০০ টাকা ফিজ ধার্য করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের মতের সম্পূর্ণ বিপরীতে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এবং এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ছাত্রছাত্রীরা নিজস্ব এলাকার কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে কি নাতা নিশ্চিত নয়। তাই অহেতুক ফিজ নেওয়া যাবে না।
প্রতিনিধিরা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ–পরিপন্থী এই পরীক্ষা আয়োজন না করার দাবি এআইডিএসও–র পক্ষ থেকে শুরু থেকেই করা হচ্ছে। অথচ বিজেপি পরিচালিত বিগত সরকার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত বিপন্নকারী একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। তাই ছাত্রছাত্রীদের অন্তত পরীক্ষায় বসার সুযোগ প্রদানের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলে স্বপন চৌধুরী, জয়দীপ দাস, তুতন দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
