West Bengal

1 hour ago

CM Suvendu Adhikari : সরকারি চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতার বার্তা, ওএমআর সংক্রান্ত নয়া ঘোষণা শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari....
CM Suvendu Adhikari....

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতের বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের আবহে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শিক্ষা ও পুরনিয়োগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারি পরীক্ষাগুলিকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সরকার। সোমবার নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’ উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যত নম্বরের উত্তর লিখবেন, সেই ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীরা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।” অর্থাৎ ওএমআর শিটে কারচুপি রুখতেই যে তাঁর এহেন সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট।এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিখিত মূ্ল্যায়নে জোর দিয়ে মৌখিকের নম্বর কমানোর কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী। 

 রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরই বিগত সরকারের যাবতীয় দুর্নীতি থেকে রাজ্য প্রশাসনকে পঙ্কিলতামুক্ত করতে কড়া বার্তা নিয়েছে বিজেপি। শুধু বার্তা দেওয়াই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পদে বসার কয়েকদিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই কাজ শুরুও করেছেন। গত মাসে শিয়ালদহের রোজগার মেলা থেকে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, “এবার থেকে পরীক্ষার কার্বন কপি প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে দেওয়া উচিত। এতদিন ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও কার্বন কপি দেওয়া হয় না। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি – এই শব্দগুলোর উৎপত্তি এখান থেকেই আসে। তাই এবার থেকে কার্বন কপি দেওয়া হবে।”

সেই কথা রেখেই সোমবার ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে তিনি ঘোষণা করে দিলেন, ‘‘সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যত নম্বরের উত্তর লিখবেন, সেই ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীরা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।” আসলে শিক্ষক কিংবা পুরসভা – নিয়োগ দুর্নীতির উৎস কিন্তু এই ওএমআর শিট। এখানে কারচুপি করে নম্বর বাড়িয়ে অবৈধভাবে ‘অযোগ্য’দের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতে মামলার নথিপত্রে ওএমআর কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত। সেই বেআইনি রুখে স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্যে গোড়া থেকেই উদ্যোগী বাংলার নতুন সরকার। সেই পদক্ষেপই নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।


তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভুরি ভুরি আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যের ১১০০ টি স্থানে শিবির হচ্ছে। সরকারের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এই শিবির। অতীতে সরকারি টাকা যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছত না। মৃত, অভারতীয়, পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। পুরুষদেরও বিধবা ভাতা দিয়েছে। ডোমকলের একটি ব্লকে সাড়ে ৩ হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্ট। যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্নীতি আগের সরকারের।” বর্তমানে ঠিক কোন লক্ষ্যে সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা নিতে নানা তথ্য় চাওয়া হচ্ছে, সে কারণও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাই না অনুপ্রবেশকারী অন্নপূর্ণা যোজনা পান কোনও অভারতীয়। কিংবা এমন কেউ যারা অবাচ্চাদের ভ্যাকসিনেশন করান না। তাঁরা কেন সরকারি সুবিধা পাবেন?” তাঁর লক্ষ্য, “সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোথাও কোনও মধ্যস্বত্ত্বাভোগী থাকবে না। প্রকৃত মানুষ সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ পান চাইব। সহযোগিতা করুন, আমরাও সহযোগিতা করব।”

আগামী দিনে বাংলার মানুষ কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৭৯ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তির সুযোগ। সমীক্ষায় বেনিয়ম হলে সরকারের টোল ফ্রি নম্বরে অভিযোগের সুযোগ পাওয়া যাবে। আগামিদিনে রাস্তাঘাট সুন্দর ও সংস্কারের কাজ আমরা করব। বাড়িতে পরিশ্রুত জল পৌঁছে দেব। সব সেক্টরে, সব এলাকায় আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে আমরা কাজ করছি। জুলাই মাস থেকে পাওয়া যাবে আয়ুষ্মান কার্ড। ২২ জুনের বাজেটেও থাকবে বিশেষ চমক।” এছাড়া ভবিষ্যতে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনই ব্যবসার উন্নতিতে লোন দেওয়ার ব্যবস্থাও হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।

You might also like!