
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ‘অভয়া’ কাণ্ড অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছিলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ এবং ভোটারদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ ও বিধায়কের বক্তব্যেও এই ঘটনাপ্রসঙ্গ উঠে এসেছে, যা রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ‘বিদ্রোহী’দের একহাত নিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। পেশায় চিকিৎসক দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন।” আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তথ্য গোপন করেছে, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিনের কল্যাণের মন্তব্য সেই অভিযোগই উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
দলীয় অন্দরে চলা টানাপোড়েন ও সাংসদদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি বিদ্রোহী শিবিরকে ‘সুখের পায়রা’ বলে কটাক্ষ করেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে দলের একাংশের অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, যদিও বিদ্রোহী নেতাদের তরফে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিন কল্যাণ বলেন, “১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ঘুরছে। পাওয়ার ছাড়া এড়া থাকতে পারবে না। মোদি আপনাদের নেতা। তবে বিজেপি এদের নেবে না। ওরা এদের ভালো করে চেনে। সব রিপোর্ট ওদের কাছে আছে, কে নারদায় ঘুস খেয়েছে, কে কী করেছে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।” ‘বিদ্রোহী’দের ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘সুখের পায়রা’ বলে বিঁধে সাংসদ বলেন, “কাকলি ঘোষ ছাড়া এরা সকলে ২০১১ সালের পর দলে এসেছে। কোনও লড়াই করেনি। আর তারকারা ভিনদেশি তারা। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় কোনওদিন জিততে পারত না। এরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছে।” এরপরই আর জি কর প্রসঙ্গ তুলে দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার ও অভয়ার মাকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “আর জি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা দুই ডাক্তার কবে রাস্তায় নেমেছিল? আমি হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, মা রাজনীতি করল ওকে নিয়ে, এখন এরাও করছে। কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আর জি করে কী হয়েছে সিবিআইকে গিয়ে বলুন ওনারা।” তাঁর এহেন মন্তব্য কিছুটা পরস্পরবিরোধী বলেও মনে করা হচ্ছে। ‘আর জি করে কী হয়েছে ‘ বলতে গিয়ে তিনি কি আসলে বিগত সরকার ওই বিষয়ে তথ্য গোপন করেছিল, এমন কথাই বলতে চাইছেন? এই প্রশ্ন উঠছে।
সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ সত্ত্বেও কোন অঙ্কে অভয়ার মা বিজেপিতে যোগ দিলেন সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ। উল্লেখ্য, বর্তমানে তৃণমূলের যা পরিস্থিতি, তাতে এই মুহূর্তে যাঁরা নেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরাও কতক্ষণ থাকবেন, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। এসবের মাঝে অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বললেন, তিনি নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। বললেন, “আপনাদের কাছে টাকা, ক্ষমতা, মুখ্যমন্ত্রী, এজেন্সি আছে, আমার কাছে আছে মা-মাটি-মানুষ।”
