
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:প্রথম দফার ভোটের দিনেও জেলায় জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন শুভেন্দু সরকার। অভিযোগ, পোলিং এজেন্টকে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।ঘটনায় তাঁর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশ্যে আসা ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।একইসঙ্গে ভোটের দিন প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
ঘটনার সূত্রপাত কুমারগঞ্জের ২৪ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধরে শারীরিক নিগ্রহ করেন এবং তাঁকে মারধর করেন।এই হামলায় শুভেন্দু বাবু জখম হন। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে ঘিরে টাকা বিলির অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, বুথে তাঁর পোলিং এজেন্টকে বসতে বাধা দিচ্ছিল শাসকদলের কর্মীরা। খবর পেয়ে তিনি সেখানে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাঁকে তাড়া করে। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে কিল, চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ দেখা মেলেনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের। সময় মত হাজির হননি কুইক রেসপন্স টিমও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভোটের দিন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে এই অশান্তির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন সময়মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি এবং প্রার্থীর নিরাপত্তার কেন এই গাফিলতি। গোটা ঘটনার বিস্তারিত ভিডিও ফুটেজ এবং পুলিশের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছে কমিশন আকাশছোঁয়া গরমের মাঝেই কোচবিহার থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর বিজেপি ও তৃণমূলের এই সংঘাত প্রথম দফার নির্বাচনকে আক্ষরিক অর্থেই রক্তক্ষয়ী করে তুলল।পুলিশের সামনেই মারধর কুমারগঞ্জেের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। কিল-চড়-লাথি-ঘুষি। গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ। মার খেয়ে কান ফেটে গিয়েছে। শুভেন্দু বললেন, "মারার চেষ্টা হয়েছে মারতে পারেনি। কানে আঁচড় দিয়েছে। একদল উন্মত্ত জেহাদি প্ল্যান করে আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় সনাতনীরা আমাকে উদ্ধার করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী পিছনে ছিল।"
