
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। পরিষদীয় দলের নেতৃত্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান নিয়ে বিতর্কের মাঝেই মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন ‘নতুন তৃণমূল’-কে ‘বিজেমূল’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, ৫৮ জন বিধায়কের এই পদক্ষেপ মানুষের ম্যান্ডেটের প্রতি অন্যায়।
পালাবদলের পর থেকে একে একে মমতার সঙ্গ ত্যাগ করেছেন দাপুটে নেতা, দীর্ঘদিনের সঙ্গীরা। প্রত্যেকের অভিযোগ ছিল একজনের বিরুদ্ধে। তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেনাপতির নেতত্ব মানতে নারাজ অধিকাংশই। এসবের মাঝে বিধানসভার সই কাণ্ড মমতার হাতে গড়া তৃণমূলকে চুরমার করে দিয়েছে। বর্তমানে পরিষদীয় দলের রাশ নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়কের সমর্থন পেয়ে বিধানসভায় এখন ‘আসল তৃণমূল’ ঋতব্রতরাই। এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তা নিয়েই ঋতব্রত-সহ বিদ্রোহী বিধায়কদের তুলোধোনা করলেন মহুয়া।
বাংলার যে ৮০ টি আসন তৃণমূল জিতেছিল, তা সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। প্রার্থীদের কোনও ক্যারিশ্মা ছিল না। তারপর এভাবে দল ভেঙে দেওয়া মানে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা।” মহুয়া বলেন, যাদের যাওয়ার ছিল, তাঁরা বিজেমূল প্রতীকে লড়ে জিতে আসতে পারতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করতে হল কেন? প্রশ্ন তুললেন তিনি। তৃণমূল এভাবে ভেঙে দেওয়ার নেপথ্যে বিদ্রোহীদের ব্যক্তিস্বার্থ রয়েছে বলেই দাবি সাংসদের। খোঁচা দিয়ে তিনি বললেন, “আসলে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে নেতাদের চর্বি জমে গিয়েছে। এখন বিরোধিতা করতে ভালো লাগছে না। কারণ, পুলিশ , বিডিও কেউ কথা শুনবে না। সমস্যায় পড়তে হবে। সেই কারণে শাসকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে সমস্যা শেষ। নামে বিরোধী থাকলাম, কিন্তু শাসকের পূর্ণ সমর্থন পাবো।” মহুয়া মৈত্র এদিন স্পষ্ট কথায় বুঝিয়ে দিলেন, তিনি মমতার সঙ্গে ছিলেন, আছেন থাকবেন।
