Breaking News
 
Earthquake: কলকাতায় কম্পন! দুপুরের তিলোত্তমায় ভূকম্পন আতঙ্ক, বহুতল থেকে হুড়মুড়িয়ে নিচে নামলেন বাসিন্দারা Rinku Singh's father: ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া! ক্যানসারের মরণব্যাধি কেড়ে নিল রিঙ্কু সিংয়ের বাবাকে, ভেঙে পড়েছেন তারকা ব্যাটার Amit Shah:‘উল্টো লটকে সোজা করে দেব’, শাহের মেজাজি ভাষণে পাল্টা বিঁধল ঘাসফুল শিবির; শুরু হল অনুপ্রবেশ নিয়ে তীব্র সংঘাত T20 World Cup and metro: রবিবাসরীয় ক্রিকেটের ধামাকা! দর্শকদের ভিড় সামলাতে প্রস্তুত এসপ্ল্যানেড স্টেশন, অতিরিক্ত মেট্রোর সময় এক নজরে Rujira Banerjee: রুজিরার সম্মান রক্ষায় ঢাল কলকাতা হাই কোর্ট! কুৎসিত আক্রমণ ও ব্যক্তিগত মন্তব্যে জারি হল কড়া নিষেধাজ্ঞা Pakistan:কাবুল-কান্দাহারে পাক বায়ুসেনার বিধ্বংসী হামলা! তালিবানকে ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’-এর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

 

Travel

2 years ago

Purulia's Garh Panchkot:ঘরের কাছেই 'গড়পঞ্চকোট' - ইতিহাস ও প্রকৃতির অপূর্ব সংমিশ্রণ

Pancharatna temple
Pancharatna temple

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ পুরুলিয়া মানেই প্রকৃতি দুহাত ভরে সাজিয়ে দিয়েছে। সেই সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে গড় পঞ্চকোটে এসে মিশেছে ইতিহাস। পুরুলিয়ার উত্তর দিকে পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে শাল, পিয়াল, আর ঘন মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা গড়পঞ্চকোট দু-তিন দিনের সপ্তাহান্তের ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা।গড় পঞ্চকোট কলকাতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়ায় অবস্থিত। আপনারা যারা প্রকৃতি প্রেমিক তাদের জন্য গড়পঞ্চকোট অসাধারণ জায়গা। চারিদিকে সবুজ জঙ্গলে ঘেরা। নাম না জানা পাখিতে ভরা পাঞ্চেত পাহাড় আর বনভূমি প্রত‍্যেক ঋতুতে তার রূপ আর রং পাল্টায়। শীতে মনোরম আবহাওয়া আর জঙ্গলের পাতা ঝরা রুক্ষ বসন, বসন্তকালে পলাশের আগুন রং আর বর্ষায় ঘন সবুজ।

 গড়পঞ্চকোটে প্রায় পাঁচ মাইল বিস্তৃত একটি দূর্গ ছিল।বৃষ্টিকে সঙ্গী করে গড়পঞ্চকোট পৌঁছনোর পর সে বিরতি নিল। সূর্যদেবও মেঘ সরিয়ে উঁকি দিলেন। চারিদিকে মায়াবী আলো। বৃষ্টির সঙ্গে রেস খেলতে খেলতে গন্তব্যে পৌঁছে বুঝলাম বেশ তেষ্টা পেয়েছে। জলের নয়, চায়ের! গড়পঞ্চকোটে ঢুকেই প্রথম চোখে পড়ে সম্প্রতি সংস্কার করা পঞ্চরত্ন মন্দির। তার সামনেই কয়েকটি ছোট ছোট চায়ের দোকান। সেখানে চা-বিস্কুটের সঙ্গে ছৌ মুখোশও বিক্রি হচ্ছে। চায়ে চুমুক দিয়ে চোখ চলে গেল পাঞ্চেত পাহাড়ের দিকে। ঘন জঙ্গলের মোড়কে এই পাহাড়ের হাতছানি এড়ানো মুশকিল। কিন্তু বাধ সাধল চায়ের দোকানের বাচ্চা ছেলেটি, ‘‘ও দিকে এখন যাবেন না। জঙ্গলে প্রচুর সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড়। অজগরও বার হয়। শীতকালে আসবেন, আমিই নিয়ে যাব আপনাকে। পাহাড়ের মাথার উপর থেকে দেখবেন গোটা অঞ্চল। পাঞ্চেত বাঁধ। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। উপর থেকে ভিউটা খুব সুন্দর।’’ বাধ্য মেয়ের মতো কথা শুনতে ছেলেটি পুরস্কারস্বরূপ ঘুরিয়ে দেখাল গড়পঞ্চকোটের গেট, জোড় বাংলা, ওয়াচ টাওয়ার, রানি মহল— পঞ্চকোট রাজত্বের ভগ্নাবশেষ। যা এক সময় রাজা, প্রজা, সৈন্য নিয়ে গমগম করত।

রাজা দামোদর শেখর ছিলেন পঞ্চকোটের প্রথম রাজা। সময়টা ৯০ খ্রিস্টাব্দ। পুরুলিয়ার ঝালদা অঞ্চলের পাঁচ আদিবাসী সর্দারের সাহায্যে এখানে তিনি রাজত্ব গড়ে তোলেন। আর সেই থেকেই নাম গড়পঞ্চকোট। ‘গড়’ মানে দুর্গ, ‘পঞ্চ’ মানে পাঁচ এবং ‘কোট’ মানে গোষ্ঠী। শোনা যায়, এই রাজার উত্তরসূরিরাই পঞ্চকোটে ছোট বড় মিলে প্রায় চল্লিশটি মন্দির তৈরি করেছিলেন। কোনওটা পোড়ামাটির, আবার কোনওটা পাথরের। যার মধ্যে এখন দু’-একটির ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। অবশ্য কিছু ঐতিহাসিকের বক্তব্য রাজারা নন, ধনী বণিকদের তৈরি এই মন্দিরগুলি। সে সময় দামোদর অববাহিকা জুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের রমরমা। বাংলায় বর্গিদের আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায় এই রাজত্ব। জনশ্রুতি, শেষ রাজার ১৭ জন রানি সম্মান বাঁচাতে আত্মহত্যা করেছিলেন।

প্রকৃতির রূপ দেখে চোখ জুড়োনোর জন্য আদর্শ জায়গা গড়পঞ্চকোট। এখানে জঙ্গলে ঘেরা বনদফতরের বাংলোগুলিতে থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা এই জায়গাটির আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। গড়পঞ্চকোট আসার আগে একদিন ছিলাম মাইথনে। অন্ধকার হতেই বাঁধের উপর আলোগুলোকে দূর থেকে দেখে মনে হত, তারারা নেমে এসেছে। মাইথন থেকে অটো ভাড়া করে গিয়েছিলাম পাঞ্চেত বাঁধ ও শক্তিপীঠ কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে। প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো এই দেবীর মন্দির আগে ছিল পঞ্চকোটে। বর্গি হামলার সময় দেবীকে নিয়ে চলে আসা হয় এখানে।

সপ্তাহান্তে মনটাকে একটু সতেজ করার জন্য গড়পঞ্চকোট ভায়া মাইথন এক কথায় অনবদ্য। তবে অবশ্যই এই সময় সঙ্গে নিতে ভুলবেন না মসকুইটো রেপেলেন্ট।

   যাওয়া - সড়ক পথ–কলকাতা থেকে ভলভো বাস এ করে আসানসোল। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বরাকর হয়ে গড়পঞ্চকোট। রেল পথ–রেল পথে গড়পঞ্চকোটের নিকটবর্তী স্টেশন হলো বরাকর। সেখান থেকে সরাসরি গড়পঞ্চকোটে যাবার গাড়ি পেয়ে যাবেন।

  থাকা - এখানে বেশ কিছু প্রাইভেট হোটেল ও লজ আছে।


You might also like!