
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বোলপুর শান্তিনিকেতন আজ বিশ্ব দরবারে স্বীকৃত এক ঐতিহ্যক্ষেত্র। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পাওয়ার পর এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন আগেই পর্যটকদের জন্য ক্যাম্পাসের ‘অন্দরমহল’ বন্ধ রেখেছিল। সেই পর্ব শেষ করে এবার পরিকল্পিত ভাবে শুরু হয়েছে ‘হেরিটেজ ওয়াক’। শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে আশ্রম চত্বর, পাঠভবন, কলাভবন, সংগীত ভবন, উত্তরায়ন, উপাসনাগৃহ ও ছাতিমতলা। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের বাসভবন উত্তরায়নের অন্তর্গত উদয়ন, উদীচী, শ্যামলী, পুনশ্চ ও কোনার্ক—এই পাঁচটি বাড়ি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ২০টি এমন ঐতিহ্যবাহী স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে হেরিটেজ ওয়াকের মাধ্যমে তুলে ধরছে বিশ্বভারতী।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর হেরিটেজ কমিটির বৈঠকে শান্তিনিকেতনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকেই পর্যটন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে থেকে প্রতি রবিবার পাঁচ দফায় হেরিটেজ ওয়াক চালু হয়। পর্যটকদের রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা থেকে টিকিট কেটে তবেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হচ্ছে। রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার টিকিট মূল্য ১০০ টাকা, গাইডসহ টিকিট নিলে ২৫০ টাকা। শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের টিকিট ৩০০ টাকা। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাচ এলে মাথাপিছু ৫০ টাকা, একা কোনও পড়ুয়া এলে ১৫০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে টিকিট মূল্য ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমস্ত পর্যটককেই পায়ে হেঁটেই এই হেরিটেজ ওয়াক সম্পূর্ণ করতে হচ্ছে।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের মতে, শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য রক্ষা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের দর্শন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই এই হেরিটেজ ওয়াকের মূল উদ্দেশ্য।
