Breaking News
 
Puja Parikrama 2026 Details: সপ্তমী থেকে পরিবহণ দফতরের পুজো পরিক্রমার স্পেশাল পরিষেবা, কোথায় ঘুরবেন, টিকিট কত, জানুন একনজরে Durga Puja 2026: ৩০০০ ড্রোনে আকাশে ফুটবে দুর্গার আবাহন, মহালয়ায় ইডেনে বিশেষ চমক, সঙ্গে বিজয়া সম্মেলনী Seva Jyoti Yatra: ৭ অক্টোবর বাংলার সব জেলায় পদযাত্রা, জায়ান্ট স্ক্রিনে মোদির ভাষণ, ‘সেবা জ্যোতি’ কর্মসূচি বিজেপির Birbhum bomb blast: বোর্ড গঠন ঘিরে বীরভূমের বুধিগ্রামে বোমাবাজি, আতঙ্কে ছোটাছুটি, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা Kolkata Heritage Tea Shops: শতাব্দীপ্রাচীন স্বাদের স্বীকৃতি! হেরিটেজ তালিকায় চিত্তবাবুর দোকান-সহ বাংলার ৮ প্রতিষ্ঠান Byelections 2026: বাগ্‌বিতণ্ডার পর গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর, লাগাতার হুমকির অভিযোগে পুলিশি পদক্ষেপ

 

Travel

8 months ago

Kamakhya: টানা চার দিনের ছুটি? নতুন বন্দে ভারতেই পৌঁছে যান কামাখ্যা–শিলং–কাজিরাঙা

Maa Kamakhya or Kameswari
Maa Kamakhya or Kameswari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বর্তমানে হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। বন্দে ভারতের চেয়ার কার কোচের সঙ্গে যাত্রীরা পরিচিত হলেও, ঝাঁ চকচকে স্লিপার কোচ একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। সেই কোচের ছবি ও ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। রেল সূত্রে খবর, আগামী ২৩ জানুয়ারি হাওড়া থেকে প্রথমবারের জন্য যাত্রা শুরু করবে হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস।

২৩ জানুয়ারি শুক্রবার, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী। তার পরের দু’দিন শনি ও রবিবার, আর সোমবার ২৬ জানুয়ারি—প্রজাতন্ত্র দিবস। টানা চার দিনের এই ছুটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যেন বাড়তি পাওনা। সেই সুযোগে নতুন ট্রেনে সফরের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারত ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও করে ফেলতে পারেন অনেকেই।


সম্ভাব্য সময়সূচি ও রুট-

রেলের প্রস্তাবিত সময় অনুযায়ী, হাওড়া থেকে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। রাতের যাত্রা শেষে ট্রেন পৌঁছবে কামাখ্যায় পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। মোট যাত্রা সময় প্রায় ১৪ ঘণ্টা।

হাওড়া থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটির সম্ভাব্য স্টপেজগুলি হল—

ব্যান্ডেল, নবদ্বীপধাম, কাটোয়া, আজ়িমগঞ্জ, নিউ ফরাক্কা, মালদহ টাউন, আলুয়াবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া, এবং শেষে কামাখ্যা। একই রুটে কামাখ্যা থেকে হাওড়া ফিরবে এই ট্রেন। 


কোথায় কোথায় যাবেন-

∆ কামাখ্যা: ‘পীঠনির্ণয় তন্ত্র’ অনুযায়ী, ৫১ শক্তিপীঠের একটি হল কামাখ্যা। অসমের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে কামাখ্যা মন্দিরে আদিশক্তি ‘কামাখ্যা’ রূপে পূজিতা হন। যাঁকে সৃষ্টি, উর্বরতা ও সংহারের দেবী হিসাবে মান্য করা হয়। কামাখ্যা তন্ত্রচর্চারও পীঠস্থান। কথিত, এখানেই পড়েছিল সতীর যোনিদেশ। মন্দিরে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করেন পুণ্যার্থীরা। জানা যায়, মন্দিরটি অহোম রাজাদের রাজত্বকালে নির্মিত। চূড়ার স্থাপত্যশৈলী নিম্ন অসমের মন্দির স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। এই মন্দির ঘিরে প্রচলিত নানা লোককথা।

মন্দির দর্শন এবং পুজো দেওয়ার মানসিকতা থাকলে, কামাখ্যা পৌঁছে সেই দিনটি বিশ্রাম করে মন্দিরে যাওয়ার জন্যই বরাদ্দ রাখতে পারেন। কারণ, পুজো দেওয়া, ঘোরার জন্য বেশ অনেকটাই সময় লেগে যাবে।

∆ গুয়াহাটি এবং আশপাশের দ্রষ্টব্য: কামাখ্যা থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের মতো। অসমের রাজধানী গুয়াহাটি বেশ বড়সড় পরিচ্ছন্ন সাজানো-গোছানো শহর। দর্শনীয় স্থানও এখানে নেহাত কম নেই। পুরো একটি দিন লেগে যাবে এই শহরের দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরতে। এখানেই রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদকে কেন্দ্র করেই পর্যটনের বিস্তার হয়েছে।

এখান থেকেই ঘুরে নিতে পারেন উমানন্দ মন্দির। নদের উপরে দ্বীপ। সেখানেই মন্দির। কথিত আছে, কামাখ্যায় দেবীর পুজোর পরে উমানন্দে ভৈরবকেও পুজো করতে হয়। মন্দির থেকে দৃশ্যমান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ উপভোগ্য। স্থানীয়েরা নৌকা করেই মন্দিরে পুজো দিতে যান। এর সঙ্গে জুড়ে নিতে পারেন রোপওয়ে চড়ার অভিজ্ঞতা। কয়েক বছর আগে রোপওয়ে চলাচল শুরু হয়েছে। সূর্যাস্ত দেখতে ব্রহ্মুপুত্রের বুকে ভেসে পড়া যায় ক্রুজ়ে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৩ দফায় ক্রুজ় চলে। আগাম অনলাইনেও বুকিং সেরে নিতে পারেন।

রোপওয়ে যাত্রাও ভাল লাগবে বিকালের দিকে। গুয়াহাটি ভ্রমণে দু’দিন যথেষ্ট। এই দু’দিনে ঘুরে নিতে পারেন বশিষ্ঠ মন্দির, ওয়ার মেমোরিয়াল-সহ আশপাশের ছোটখাটো দ্রষ্টব্য। ঘুরে নিতে পারেন অশ্বক্রান্ত মন্দির। অসমের বহু পুরনো মন্দিরটির আরাধ্য দেবতা কৃষ্ণ। রাজা শিব সিংহের হাতে এটি নির্মিত। কথিত আছে, কৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করার সময় তাঁর অশ্বেরা এখানে বিশ্রাম নিয়েছিল। তাই অনেকে বলেন, এই মন্দিরের আদি নাম ‘অশ্বক্লান্ত’। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই মন্দিরে জনার্দন এবং অনন্তশায়ী বিষ্ণুর মূর্তি রয়েছে।

∆ চেনা ছকের বাইরে গুয়াহাটি ভ্রমণ: অসমে একাধিক অভয়ারণ্য রয়েছে। বন্যপ্রাণ এবং অরণ্য-প্রকৃতির প্রতি উৎসাহী হলে, ভ্রমণসূচি সাজাতে পারেন একেবারে অন্য ভাবে।

∆ পবিতোরা অভয়ারণ্য: গুয়াহাটি থেকে দূরত্ব কম-বেশি ৫৫ কিলোমিটার। কাজিরাঙার পরিচয় যেমন একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য, পবিতোরারও তাই। বিস্তীর্ণ তৃণভূমি গন্ডারের আদর্শ বাসস্থান। ২২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৭ রকম সরীসৃপ এবং ৩৭৫ রকম প্রজাতির পাখি রয়েছে এখানে। জিপ সাফারির বন্দোবস্ত রয়েছে এই অরণ্যে। চিতাবাঘ, বুনো শুয়োর-সহ হরেক বন্য জন্তু রয়েছে এখানে। বর্ষার মরসুমে অরণ্য বন্ধ থাকে। ফলে শীত-বসন্তই এখানে ঘোরার ভাল সময়।

∆ চান্দুবি হ্রদ: গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে চান্দুবি হ্রদ পক্ষী পর্যবেক্ষকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। ঘন অরণ্য এবং গারো পাহাড় ঘিরে রয়েছে এই স্থান। নৌ-বিহার করা যায়। চারপাশের সৌন্দর্য মনোরম। জলে শালুক, পদ্ম ফোটে। শীতের মরসুমে এখানে পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে। জানা যায়, অসমে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল।

∆ কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান: একশৃঙ্গ গন্ডারের বিচরণক্ষেত্র কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে আগেই। প্রায় ২০০০ কিলোমিটার জুড়ে অরণ্যের বিস্তৃতি। ২২০০-এর বেশি একশৃঙ্গ গন্ডারের আশ্রয়স্থল এই বনভূমি। অসমের গোলাঘাট ও নগাঁও জেলা জুড়ে জাতীয় উদ্যানের বিস্তৃতি। হাতি, ভারতীয় বাইসন, গউর, বাঘ, নানা প্রজাতির হরিণ-সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান। অরণ্য ঘোরার উপায় হল জিপ সাফারি। হাতি সাফারিরও ব্যবস্থা আছে, যেখানে হাতির পিঠে চেপে অরণ্যে প্রবেশ করা যায়।

∆ মানস জাতীয় উদ্যান: বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত মানস জাতীয় উদ্যান। গুয়াহাটি থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরের এই উদ্যানটি বরপেটা জেলায় অবস্থিত। মানসের অরণ্য ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে অবশ্য কামাখ্যা আসার আগেই নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে নেমে যেতে হবে। সেখান থেকে সড়কপথে মানসের দূরত্ব ৭৪ কিলোমিটারের মতো। মানস ঘুরতে হলে তিনটি দিন এখানেই থেকে যেতে পারেন। আয়তনে এই জাতীয় উদ্যান কাজিরাঙার প্রায় সমানই। বাঘ, হাতি, একশৃঙ্গ গন্ডার, চিতাবাঘ, সরীসৃপ, চারশোর বেশি প্রজাতির পাখি-সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল এই অরণ্য। জিপ এবং হাতি সাফারির মাধ্যমেই অরণ্য ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে।

∆ মেঘালয়-ডাউকি: কামাখ্যা পৌঁছে সেই দিনটি সেখানেই ঘুরে নিয়ে পর দিন চলে যেতে পারেন মেঘালয়ের দিকেও। রাজধানী শিলংয়ে থেকেই ঘুরে নিতে পারেন চেরাপুঞ্জি এবং আশপাশের জায়গাগুলি। শিলং যাওয়ার সময়ে ঘুরে নিন পাহাড় ঘেরা উমিয়াম হ্রদ। সেখানে প্যাডেল বোটিংয়ের সুযোগ রয়েছে। রাত্রিবাসও করতে পারেন শিলংয়ে। সেখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ওয়ার্ডস লেক, এলিফ্যান্স ফলস, নোহকালিকা‌ই ফলস, সেভেন সিস্টার ফলস, বাটারফ্লাই মিউজ়িয়াম। হাতে সময় থাকলে জুড়ে নিতে পারেন চেরাপুঞ্জি বা ডাউকি। ডাউকি নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ যে, নীচে থাকা নুড়ি-পাথরও স্পষ্ট দেখা যায়। এখানে নৌ-বিহার করার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চেরাপুঞ্জির কাছে রয়েছে ডবল ডেকার রুট ব্রিজ। তবে সেই জায়গাটি ঘুরতে গেলে এক দিন লেগে যাবে। হাতে কতটা সময় রয়েছে, তা বিবেচনা করে ভ্রমণসূচি সাজাতে হবে।

You might also like!