Life Style News

1 hour ago

Parenting Tips: পরীক্ষার পর ছুটি, মোবাইলেই ডুবে খুদেরা! বকাঝকা নয়, এভাবেই রাখুন ব্যস্ত

Children Holiday Activities Without Mobile
Children Holiday Activities Without Mobile

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বার্ষিক পরীক্ষা শেষ, এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। এই সময়টায় পড়ার চাপ না থাকায় বেশিরভাগ শিশুই বাড়িতে অবসর সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু সেই অবসরই যেন এখন অভিভাবকদের নতুন চিন্তার কারণ। কারণ, দিনের বেশিরভাগ সময়ই খুদেরা ডুবে থাকছে মোবাইল ফোনে। ভিডিও, গেম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া—মোবাইলের নেশা যেন বাড়ছেই। বারণ করলেই শুরু হচ্ছে রাগ, জেদ বা কান্নাকাটি। অনেক সময় মোবাইল কেড়ে নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে। ফলে বকাবকি বা জোর করে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে অভিভাবকদের কাছে।

১)‌ রান্না করা কেবল মেয়েলি কাজ, এই ধারণা এখন অনেকটাই বদলেছে। ছেলে-মেয়ে, দু’জনকেই যেন রান্নার মতো জরুরি কৌশল শেখানো হয়, সে ব্যাপারে এখনকার অভিভাবকেরা বেশ সচেতন। তবে অল্পবয়সি শিশুদের গ্যাসের সামনে যাওয়া উচিত নয়। গ্যাস ছাড়াই যেই রান্নাগুলি করে ফেলা যায়, সেগুলি শেখাতে শুরু করুন খুদেকে। স্যান্ডউইচ, স্যালাড, রকমারি চাট, শরবত হাতে ধরে শেখান। এক এক দিন এক একটা রান্না শেখান। এতে শিশুরাও ব্যস্ত থাকবে, তারা নতুন কিছু শিখতেও পারবে। ছুটির দিনগুলিতে শিশুকে বাজারে নিয়ে যান, সেখানে শাকসব্জি, মাছ চেনান। এতে তারা রান্নার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে পড়বে।

২) ছবি আঁকা থেকে গান গাওয়া, সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন সন্তানকে। সন্তান কোনও ছবি আঁকলে কী ভাবে ছবিটি আরও ভাল হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। তার আঁকা ছবিগুলি বাঁধিয়ে ঘরের একটি দেওয়ালে সাজিয়ে রাখতে পারেন, এতে তারা আরও উৎসাহী হবে। হাতের কাজ, ক্রাফটের কাজও শিখতে পারে তাঁরা এই সময়। গানবাজনা শেখার সুযোগ করে দিন। তবে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়, সন্তান এই সব কাজে আনন্দ পাচ্ছে কি না, তা-ও দেখতে হবে।

৩) খুদের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পিকনিকের ব্যবস্থাও করতে পারেন বাড়িতে। পিকনিক সাধারণত বাইরে করলেই মজা বেশি হয়। তবে গরমের প্রকোপ থেকে বাঁচতে বাড়িতেই ব্যবস্থা করুন পিকনিকের। এ ক্ষেত্রে খুদে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলায় ব্যস্ত থাকবে। তবে পিকনিকের ব্যবস্থা হলে খাবারের আয়জনও রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাকি রান্নাবান্না নিজে করে নিলেও একটি পদ বানানোর সময় খুদের সাহায্য নিতে পারেন। এতেও তার মনোযোগ ফোন, টিভির থেকে সরবে।

৪) অন্য সময় পড়াশোনার চাপে শিশুরা বাইরে গিয়ে খেলাধুলো করার সুযোগ কম পায়। তবে ছুটির দিনগুলিতে বিকেল হলেই শিশুকে নিয়ে পার্কে চলে যান। পার্কে গিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠবে খুদে। কেউ বেছে নিতে পারে ফুটবল, কেউ ক্রিকেট, কেউ আবার ক্যারাটে। পাশাপাশি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাঁতারের মতো নতুন কিছু শিখতে চাইলেও এ ক্ষেত্রে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। ছুটির সময়ে এই সব খেলাতেই গুরুত্ব দিন বেশি। এতে শরীরচর্চাও হয়ে যাবে।

৫) রোজ নিয়ম করে শিশুর জন্য একটি করে গল্পের সেশন করুন। ওই সময় একটি করে গল্প পড়ে শোনান শিশুকে। গল্পের বই ছাড়াও শিশুকে এই সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। শহর কলকাতার বিভিন্ন অলিগলির সঙ্গে নানা কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। এক দিন শহর ঘুরতে বেড়িয়ে শিশুকে সেই সব কাহিনি শোনাতে পারেন। তার জন্য অবশ্য নিজেকে খানিকটা পড়াশোনা করতে হবে। 

এছাড়াও, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। এতে একদিকে যেমন শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমবে, তেমনই তারা ধীরে ধীরে অন্য কাজেও আগ্রহ খুঁজে পাবে। ছুটির এই সময়টা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে বড় ভূমিকা নিতে পারে—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

You might also like!