Life Style News

1 month ago

Mehendi Safety Tips: বিয়ের মরসুমে মেহন্দির ট্রেন্ডে সতর্কতা জরুরি, জ্বালা হলে অবহেলা নয়

Mehendi Causing Skin Irritation
Mehendi Causing Skin Irritation

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ের মরসুম মানেই সাজগোজের ধুম। শাড়ি, লেহঙ্গা, চোলির সঙ্গে জমকালো গয়না আর হাতে মেহন্দি—এই মিলনেই যেন সম্পূর্ণ হয় উৎসবের লুক। তবে মেহন্দি এখন আর শুধু বিয়ের মরসুমেই সীমাবদ্ধ নয়। সাজগোজের ইচ্ছে হলেই কিংবা ফ্যাশনের খাতিরে বহু মানুষই হাতে মেহন্দি পরছেন। বিশেষ করে ইদানীং আধুনিক ও ফিউশন মেহন্দি ডিজাইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি পশ্চিমী পোশাকের সঙ্গেও মেহন্দির ব্যবহার চোখে পড়ছে। কিন্তু রূপচর্চার এই অনুষঙ্গে লুকিয়ে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। মেহন্দি পরার পর যদি হাতে জ্বালা, চুলকানি বা পোড়া ভাব অনুভূত হয়, তা মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকেই ভালো রং ওঠার আশায় অস্বস্তি সহ্য করে নেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।


∆ কেন এমন হয়?

১। মেহন্দিতে রং গাঢ় করার জন্য অনেক সময় পিপিডি নামের একটি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ওই রাসায়নিক ত্বকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি হতে পারে বা মারাত্মক জ্বালাও করতে পারে।

২। এ ছাড়া মেহন্দির রং দীর্ঘস্থায়ী করতে অনেক সময় তাতে অ্যামোনিয়া বা কড়া অ্যাসিডিক উপকরণ মেশানো হয়। তা থেকেও ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।

৩। ত্বক যদি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়, তা হলেও সমস্যা হতে পারে। কারণ মেহন্দি পাতায় থাকা ন্যাচরাল অয়েল একটু জোরালো প্রকৃতির। তা থেকে সংবেদনশীল ত্বকে সাময়িক জ্বালা হতেই পারে।

৪। সস্তায় পাওয়া বহু মেহন্দিতে টেক্সটাইল ডাই-ও ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।


∆ হাত জ্বালা করলে কী করবেন?

ধুয়ে ফেলুন: হাতা জ্বালা করছে বুঝতে পারলে অবিলম্বে মেহন্দি জল দিয়ে ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন। রঙ গাঢ় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। কারণ, যত বেশি সময় ধরে রাখবেন, ততই ত্বকের ক্ষতি হবে।

ঠান্ডা জল বা বরফ : যেখানে জ্বালা করছে সেই জায়গাটিতে বারবার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন বা বরফ লাগান। এতে জ্বালা ভাব ও লালচে ভাব কমবে।

নারকেল তেল বা অ্যালোভেরা জেল: হাত ধোয়ার পর হাতে নারকেল তেল অথবা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন। তবে দোকান থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেল না লাগানোই ভাল। বাড়িতে গাছ থাকলে, সরাসরি গাছের পাতা থেকে জেলি বার করে হাতে লাগান। এতে ত্বক আরাম পাবে।

ক্যালামাইন: জ্বালা ভাব কমানোর জন্য ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। তাতেও ত্বকে একটা ঠান্ডা অনুভূতি হবে। আরাম পাবে ত্বক।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: যদি দেখেন হাত ফুলে গেছে, ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোসকা পড়েছে ত্বকে কিংবা হাত অত্যধিক চুলকাচ্ছে, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


∆ সতর্ক থাকতে যা করা উচিত

প্যাচ টেস্ট: প্রতি বার মেহেন্দি ব্যবহার করার আগে হাতের তালুর এক কোনায় সামান্য পরিমাণে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। জ্বালা না করলে তবেই পুরো হাতে ব্যবহার করুন।

বাড়িতে বানান: পাতা বেটে বাড়িতে মেহন্দি বানালে তা রাসায়নিক মুক্ত হয়। ফলে ত্বকের জন্য অনেকটা নিরাপদ বলা চলে তাকে।

ব্র্যান্ড দেখে নিন: কেনার সময় ভালো ব্র্যান্ড এবং উপকরণ-তালিকা দেখে নিন। ‘৫ মিনিটে গাঢ় রং’ জাতীয় বিজ্ঞাপনে ভুলবেন না। কারণ এতে রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা বেশি।

You might also like!