
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন লক্ষ্য আর নিজেকে আরও ভালো করে গড়ে তোলার সুযোগ। জীবনের মতো প্রেমের সম্পর্কেও থাকে ভালো-মন্দ, চড়াই-উতরাই। তাই বছরের শুরুতেই যদি সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সুন্দর করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদি সুফল দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও সুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে কিছু অভ্যাস রপ্ত করা অত্যন্ত জরুরি। কী সেই অভ্যাস, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
১। মনের মানুষের সঙ্গে আরও খোলামেলাভাবে মিশুন। সব কিছু শেয়ার করুন। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, দু’জন দু’জনের সঙ্গে কথা বলুন। যত বেশি কথা বলবেন, ততই সম্পর্কের ভিত শক্তপোক্ত হবে। তাই এই বছরের শুরু থেকেই বেশি করে কথাবার্তা বলুন।
২। এক একটি ঘটনায় এক একজনের এক একরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তিনি সেই অনুযায়ী হয়তো অনেক কিছু করেও ফেলেন। যা হয়তো অন্যজনের মনে হতে পারে তা বড্ড বেমানান। এমন কোনও ঘটনা সঙ্গীর জীবনে ঘটতে পারে। সে কথা সঙ্গী আপনাকে বললে মন দিয়ে শুনুন। কিন্তু ভুলেও তড়িঘড়ি একটি ঘটনার জন্য তাঁর সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না। তাতে একটা সুন্দর সম্পর্ক নিমেষে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নিজেও কিছুটা সময় নিন। সঙ্গীকেও সময় দিন। বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
৩। ঘুম ভাঙা থেকে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত হাজারও কাজ। অফিসের ডেডলাইন মেটাতে মেটাতেই দিন শেষ। তা বলে সঙ্গীকে সময় না দিলে যে চলবে না। তাই প্রতিদিন সঙ্গীর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গল্প পড়তে পারেন। একসঙ্গে গান শুনতে কিংবা সিনেমা-সিরিজ দেখতে পারেন। রান্নাঘরেও দু’জনে খানিকটা সময় কাটাতে পারেন। তাতে দু’জন দু’জনের আরও কাছে আসতে পারবেন। আরও শক্ত হবে সম্পর্কের ভিত।
৪। সঙ্গীর মন জিততে যে সবসময় দারুণ উপহার দিতে হবে তা নয়। সম্পর্কের উষ্ণতা জিইয়ে রাখতে ছোট ছোট মুহূর্তই যথেষ্ট। ঘুম ভাঙাতে মাঝে মাঝে বেড টি কিংবা বেড কফি এগিয়ে দিন তাঁর কাছে। মাঝে মাঝে মেসেজে জানান আপনার ভালোবাসা। কিংবা কোনও কাজে তাঁর কাছ থেকে সাহায্য পেলে ধন্যবাদ জানান। তাতেই দেখবেন গলে জল হয়ে গিয়েছেন সঙ্গী।
৫। কর্মক্ষেত্রে আপনাকে নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে হয় ঠিকই। আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতার উপরে সাফল্য নির্ভর করে। কিন্তু বাড়ির চার দেওয়ালের ভিতর দু’জনে একটা টিম হিসাবে কাজ করুন। তাতেই দেখবেন সম্পর্কের চেহারাই যেন বদলে গিয়েছে। একে অপরের অনেক বেশি কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছেন।
৬। ভুল হলে তা স্বীকার করা এবং ক্ষমা করতে শেখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। প্রতিটি সম্পর্কেই মতবিরোধ থাকে, কিন্তু তা কীভাবে সামলানো হচ্ছে, সেটাই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
নতুন বছরে তাই শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার দিকেও নজর দিন। ছোট কিছু অভ্যাসই প্রেমের সম্পর্কে আনতে পারে বড় পরিবর্তন—আর সেটাই হতে পারে বছরের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।
