
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হল স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য কোনওভাবেই গোপন না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে রাজ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ১৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রয়েছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বর হলে সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত পরীক্ষা করাতে পারেন, সেজন্য বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
বর্ষার মাঝামাঝি থেকেই রাজ্যে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু। বহু এলাকায় ঘরে ঘরে জ্বরে আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও রাজ্যে বর্ষার বিরাম নেই। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় আরও বেশি করে ডেঙ্গু-সহ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। এই অবস্থায় ডেঙ্গু রুখতে আজ, মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় একাধিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “ডেঙ্গু হলে লুকোবেন না।” নির্ভয়ে ডাক্তারদের এই রোগ হলে লেখার অভয় আরও একবার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখনও অবধি রাজ্যে চার হাজারের মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত। গতবারের থেকে এবার রাজ্যে ৫০ শতাংশ কম ডেঙ্গু আক্রান্ত। সেই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন ডেঙ্গুর মরসুম। পুজোর পর পর্যন্ত এই সংক্রমণের সময়কাল থাকে। সেই কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে নজরদারি চলবে।
কলকাতার ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এখনও মহানগরের ৬১টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুমুক্ত বলে জানানো হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানানো হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বহু পুরসভা ভেঙে গিয়েছে। বহু পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অনেক জায়গাতেই পুরসভায় প্রশাসক নেই। চেয়ারম্যানদের অনেকেই কাজ করছেন না! কিছু পুরসভাও উন্নয়ন ও পরিষেবামূলক কাজকর্ম করছে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
