
কলকাতা, ১০ অক্টোবর ঃ নীরবতা ভেঙে হঠাৎই রাজনীতির কথা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মুখে৷ নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন৷ নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা টেনে এনে গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ রবিবার লক্ষ্মীপুজোয় অধিকারী পরিবারের আমন্ত্রণ পেয়ে কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ এসেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁকে বাড়িতে স্বাগত জানাতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে আক্রমণ করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। বাড়ির সামনে হাজির হওয়া সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তৃণমূলনেত্রী মমতা যে বাড়ি থেকে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন..., এই বাড়িতে (শান্তিকুঞ্জ) ছিলেন উনি। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামের ঘটনা ঘটেছিল। ২০০৮ সালের ১৩ মার্চ এই বাড়ির (শান্তিকুঞ্জ) ছাদে ছিলেন রাতে। নন্দীগ্রাম না হলে দিদি তো .... মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।’’ ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে সোমবার শোভন জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামের ঘটনাটি যে দিন ঘটে, সে দিন তিনি ছিলেন তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে। শান্তিকুঞ্জ অর্থাৎ শুভেন্দুর কাঁথির বাড়ি থেকে নন্দীগ্রামে যাওয়ার যে দাবি শুভেন্দু করেছেন, তা অসত্য। শোভন বলেন, ‘‘রাজনীতি করতে নেমে ইতিহাসকে বিকৃত করছেন উনি। এটা কখনওই মেনে নেব না। আমি ওই আক্রমণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলার মানুষ জানেন সে দিন কী হয়েছিল।’’ একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতার উদ্দেশে শোভনের হুঁশিয়ারি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানহানি করার চেষ্টা করলে যতদূর যাওয়ার তিনি যাবেন৷ হঠাৎ করে শোভনের এই সক্রিয়তায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তিনি কি ফের তৃণমূলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন? শোভন অবশ্য এই ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, কোনও কিছু পাওয়ার লোভে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী হিসেবেই এই প্রতিবাদ করছেন তিনি৷ বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ করে শোভনের পাল্টা দাবি, সভা সমিতি বাদ দিলে নন্দীগ্রামে অত্যাচারের সময় শুভেন্দুকে সেখানে দেখাই যেত না৷ ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম গণহত্যার ঘটনা ঘটে৷ সেদিনই রাতে নন্দীগ্রাম রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শোভন বলেন, 'সেদিন আমরা তৃণমূল ভবনে ছিলাম৷ গণহত্যার খবর পেয়ে মমতাদির দু' চোখ দিয়ে জল পড়ছিল৷ বিকেলেই আমরা নন্দীগ্রাম রওনা দিই৷ চণ্ডীপুরে আমাদের আটকানো হয়৷ শুভেন্দুবাবু, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ আপনি সেদিন চণ্ডীপুরে উপস্থিত ছিলেন? নিজেকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হোতা হিসেবে দাবি করেন! পরের দিন ১৫ মার্চ তমলুক, নন্দীগ্রাম হাসপাতালে পৌঁছেছিলাম আমরা৷ শোভন বলেছেন, “শুভেন্দুবাবু আপনি বলুন তো, শিশিরদা (শিশির অধিকারী) মাঝে মধ্যে এসে কোলাঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমাদের সঙ্গী হতেন কখনও কখনও৷ কিন্তু নন্দীগ্রামে যখন দিনের পর দিন অত্যাচার চলছে, তখন একবারও আপনি আগে পা পরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন? সভা সমিতি প্রচুর হয়েছিল৷ প্রকৃত সত্য সবার জানা উচিত৷ বিকৃত সত্য তুলে ধরছেন শান্তিকুঞ্জ থেকে৷ বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের মাটি নিয়ে গিয়ে নবান্ন দখল করেছেন? শোভনের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা আন্দোলনের নাম৷ সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আক্রমণ হয়েছে৷ লক্ষ্মীপুজোর দিনে আপনার এই বক্তব্য শুনে ভেবেছিলাম শিশিরদা অন্তত ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদ করবেন৷'
