
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’—এই মন্ত্র উচ্চারণ করেই ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় তাঁর কপালে ফোঁটা দেন বোনেরা। এরপর মিষ্টিমুখ, আশীর্বাদ ও উপহার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, নরকাসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ বোন সুভদ্রার কাছে এলে তিনি ভাইয়ের কপালে জয়টিকা পরিয়ে মিষ্টিমুখ করান। কথিত আছে, সেই ঘটনা থেকেই এই উৎসবের প্রচলন। সময়ের সঙ্গে এই রীতি ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক বন্ধনের এক বিশেষ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
∆ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে-
দ্বিতীয়া তিথি আরম্ভ-
বাংলা- ২৪ কার্তিক, মঙ্গলবার।
ইংরেজি- ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার।
সময়- দুপুর ২টো ২ মিনিট।
দ্বিতীয়া তিথি শেষ-
বাংলা- ২৫ কার্তিক, বুধবার।
ইংরেজি- ১১ নভেম্বর, বুধবার।
সময়- দুপুর ৩টে ৫৪ মিনিট।
∆ গুপ্তপ্রেশ পঞ্জিকা মতে-
দ্বিতীয়া তিথি আরম্ভ-
বাংলা- ২৩ কার্তিক, মঙ্গলবার।
ইংরেজি- ১০ নভেম্বের, মঙ্গলবার।
সময়- দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড।
দ্বিতীয়া তিথি শেষ-
বাংলা- ২৪ কার্তিক, বুধবার।
ইংরেজি- ১১ নভেম্বর, বুধবার।
সময়– দুপুর ২টো ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড।
∆ কখন ফোঁটা দেওয়া সবচেয়ে শুভ?
যাঁরা ভাইফোঁটা দেবেন, তাঁদের শুভ সময়টি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ১১ মিনিট পর্যন্ত ভাইফোঁটার সবচেয়ে শুভ সময় বা অপরাহ্ণকাল। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাইয়ের কপালে দই, চন্দন, কাজল বা ঘিয়ের ফোঁটা দেওয়া অত্যন্ত মঙ্গলের বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই বিশেষ সময়ে ফোঁটা দিলে ভাইয়ের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
ভাই ও বোনের অটুট ভালোবাসার প্রতীক হল এই উৎসব। যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে যমরাজকে স্মরণ করে ভাইয়ের দীর্ঘ জীবন কামনা করা হয় এই দিনে। ফোঁটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টিমুখ ও নানা রকম উপহার আদানপ্রদানের প্রথাও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তাই কোনও রকমের বিভ্রান্তিতে না জড়িয়ে ১১ তারিখেই উৎসবের আনন্দে মেতে উঠুন।
