
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা ও অচলাবস্থায় জর্জরিত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া। কখনও বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অসন্তোষ, কখনও পরিচালক ও ফেডারেশনের মতবিরোধ, আবার কখনও শুটিং বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘিরে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে টলিউডের অন্দরমহল। গত কয়েক বছরে এই টানাপড়েনের পাশাপাশি ব্যান সংস্কৃতি নিয়েও বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইম্পা ও ফেডারেশনের মতো সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে টালিগঞ্জের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে সরাসরি নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মাস দুয়েক আগে টলিউডের ‘নর্দমা সাফ’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁর তত্ত্বাবধানেই টলিউডের সংগঠনগুলিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হল।
রাজ্যে পালাবদলের পর সিনেপাড়ায় প্রথম ভোট। পাশাপাশি বিতর্কের আবহ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পালা। অতঃপর টলিউডের এবারের ভোট ঘিরে যে বাড়তি কৌতূহল, উত্তেজনা থাকবে স্টুডিওপাড়ায়, তা বলাই বাহুল্য। ৩১ অক্টোবর, শনিবার থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় শুরু হল ২৬টি গিল্ডের দু’দিন ব্যাপী নির্বাচন। বিভিন্ন গিল্ডের নতুন সভাপতি বেছে নিতেই এই ভোটযুদ্ধ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই চলছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। ভোট যাতে সুস্ঠুভাবে হয়, তার জন্য এদিন সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বাইরে চেয়ারে বসে তত্ত্বাবধানে করতে দেখা যায় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তীকে।তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কেন স্টুডিওর বাইরে চেয়ারে বসে? প্রশ্ন যেতেই তিনি জানালেন, আমিই বলেছিলাম ভোটার ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকবে না। তাই আমি বাইরে বসে আছি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, “এতদিন টলিউডে একনায়কতন্ত্র চলছিল। কেউ কাজ করতে চাইছিল না। তবে এবার ভোটের পর টলিপাড়ায় ছবি বদলে যাবে”, বলেই আশাবাদী মিঠুন। পাশাপাশি পরিচালকদের উৎসাহ দিতে তিনি এও জানান যে, “রাজ্য সরকার ৩০ শতাংশ ভরতুকি দিচ্ছে, আপনারা ছবি করুন।” পালাবদলের পর টলিপাড়ার প্রথম ভোট নিয়ে মুখ খুলেছেন রুদ্রনীল ঘোষও। তারকা বিধায়কের মন্তব্য, “আগে এসএমএসে ভোট হত। তবে এবার ভোট হচ্ছে লেবার কমিশনের নিয়ম মেনে।” এবার নির্বাচনী রেজাল্টে কে, কোন দায়িত্বে আসবেন? সেটাই দেখার।
