Breaking News
 
TMC :কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবির! প্রতীক বিতর্কে থানায় অভিযোগ, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা Giorgia Meloni: মোদি-মেলোনি বন্ধুত্বের চর্চার মাঝেই রসিকতা,‘দিল্লি থেকে ভোটে দাঁড়ান…’, প্রস্তাব উপ-প্রধানমন্ত্রীর CM Suvendu Adhikari: বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মজয়ন্তীতে বড় ঘোষণা, বাংলায় গড়ে উঠবে জাতীয় মানের ‘বন্দে মাতরম’ মিউজিয়াম Abhishek Banerjee: ডিজে মামলায় নতুন মোড়, কণ্ঠস্বরের নমুনা নিয়ে হাই কোর্টে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ Darkest chapter: ৫০ বছর পর ইতিহাসের পাতায় জরুরি অবস্থা, এনসিইআরটি বইয়ে জায়গা পেল ইন্দিরা জমানার বিতর্কিত অধ্যায় Mamata Banerjee: একুশে জুলাইয়ে অস্তিত্বের লড়াই, ‘বেইমান নই’ বার্তায় সংগঠন ধরে রাখতে মরিয়া কালীঘাট তৃণমূল

 

Life Style News

1 day ago

Tea vs Coffee: চা না কফি—কোন পানীয়-এ বেশি সজাগ থাকে মস্তিষ্ক? কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা

Tea vs Coffee, Brain Alertness and Focus Concept
Tea vs Coffee, Brain Alertness and Focus Concept

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  সকাল শুরু হোক কিংবা কাজের ফাঁকে একটু বিরতি—এক কাপ চা বা কফি ছাড়া অনেকের দিনই যেন সম্পূর্ণ হয় না। তবে চা-প্রেমী আর কফি-প্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলে আসছে। কেউ বলেন কফি কর্মক্ষমতা বাড়ায়, আবার কারও মতে চা মনকে শান্ত রেখে দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি ব্যক্তিত্বের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে এই দুই পানীয় আমাদের মস্তিষ্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তার উপর। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে থাকা ক্যাফেইন দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোযোগ, সতর্কতা এবং কর্মক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ কাজ, পড়াশোনা বা রাত জাগার সময় অনেকেই কফির উপর ভরসা করেন। অন্যদিকে, চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এতে থাকা এল-থিয়ানিন (L-theanine) নামের একটি উপাদান মস্তিষ্ককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এই উপাদান ক্যাফেইনের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করে, ফলে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি না করে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

কফি এবং চা উভয়ের মধ্যেই ক্যাফেইন রয়েছে তবে কফিতে এর পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে, যা মানুষের মানসিক সক্রিয়তাকে হুট করে বাড়িয়ে তোলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস (ইউসি ডেভিস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এক কাপ কফিতে প্রায় ৯৫ থেকে ১৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে সমপরিমাণ ব্ল্যাক টি-তে মাত্র ২৫ থেকে ৪৮ মিলিগ্রাম এবং গ্রিন টি-তে ২৫ থেকে ২৯ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন পাওয়া যায়। এই বিপুল পার্থক্যের কারণেই কফি পানের পর চিন্তাভাবনার গতি ও উদ্দীপনা তীব্র হয়, অন্যদিকে চা আমাদের মনের ভেতর এক শান্ত সজাগ ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে।

কফির তুলনায় চায়ের একটি মস্ত বড় বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে এবং তা হলো এতে থাকা 'এল-থিয়ানিন' (L-theanine) নামক একটি অত্যন্ত কার্যকরী অ্যামাইনো অ্যাসিড। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ক্যাফেন যখন এল-থিয়ানিনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা মানুষের কঠিন কাজের সময়েও মনোযোগের ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। চলতি বছরে প্রকাশিত একটি মেটা-অ্যানালিসিস বা পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও প্রমাণিত হয়েছে যে, এই যুগলবন্দি মানুষের মানসিক মেজাজ এবং অবজ্ঞানাত্মক কার্যকারিতা উন্নত করতে দারুণ সাহায্য করে থাকে।  

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, চা হয়তো কাউকে রাতারাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান বানিয়ে দেয় না, তবে এটি মানুষের গভীর মনোযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে অনেক বেশি মসৃণ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। অতিরিক্ত ক্যাফেন পানের ফলে যে স্নায়বিক উত্তেজনা বা অস্থিরতা তৈরি হয়, চায়ের উপাদানগুলি সেই রুক্ষ ভাবটাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়। যার ফলে কোনও কাজের প্রতি একাগ্রতা বজায় রাখা একজন মানুষের জন্য মানসিক দিক থেকে অনেক সহজ এবং আরামদায়ক হয়ে ওঠে। 

চা খাওয়ার এই অভ্যাস বা পছন্দ মানুষের নিজস্ব স্বভাব এবং রোজকার জীবনযাপনের রুটিনকেও খুব সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করে থাকে। বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নিয়মিত চা পানের অভ্যাস মানুষের মানসিক চাপ ও অবসাদের মাত্রাকে অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁরা গ্রিন টি খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের মেজাজ অন্য অনেকের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত এবং স্থিতিশীল থাকে বলে প্রমাণ মিলেছে।  

এর মানে অবশ্য এই নয় যে চা পানকারী সমস্ত মানুষই জন্মগতভাবে অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় কিংবা কফি পানকারীদের চেয়ে অনেক বেশি চিন্তাশীল হন। আসল বিষয়টি হলো, যাঁরা চায়ের মৃদু স্বাদ পছন্দ করেন, তাঁরা আসলে নিজেদের জীবনের গতিকে একটু ধীর এবং ছন্দবদ্ধ রাখতে ভালোবাসেন। বিশেষ করে যাঁরা কফির কড়া ক্যাফেইনের তীব্র ধাক্কা সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের শরীর ও মন মনস্তাত্ত্বিক কারণেই চায়ের এই শান্ত স্বভাবটিকে বেছে নেয়।  

বিজ্ঞানসম্মতভাবে সবথেকে বড় সত্যি এটাই যে, কফি মানুষের শরীরে খুব দ্রুত উদ্দীপনা তৈরি করে, যেখানে চায়ের প্রভাব অত্যন্ত মৃদু ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই আপনার প্রিয় পানীয়টি কী, তা দেখে আপনার ব্যক্তিত্বের কোনও স্থায়ী ছাঁচ তৈরি করা বিজ্ঞানসম্মত হবে না। গবেষণা আমাদের একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয় দেখায়, যা প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চাহিদার সঙ্গে জড়িত।

মানুষ আসলে অবচেতনভাবেই এমন একটি পানীয় বেছে নেয়, যা তার সারাদিনের কাজের গতি এবং মানসিক ছন্দের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। অনেকের জন্য দিনের শুরুতেই বা কাজের মাঝে কফির প্রয়োজন হয় এনার্জির জন্য। আবার অন্য অনেকের কাছেই দিনের আসল উদ্দেশ্য হল চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শান্ত ও নীরব মনোযোগের স্তরে নিজেকে নিয়ে যাওয়া। 

You might also like!