
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালির পারিবারিক উৎসবগুলির মধ্যে জামাইষষ্ঠীর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শুধু জামাই আপ্যায়ন নয়, এই দিনটি দুই পরিবারের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করারও একটি বিশেষ উপলক্ষ। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে পালিত এই উৎসবে বিবাহিত মেয়েরা স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন, আর শাশুড়িরা নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জামাই ও মেয়ের মঙ্গল কামনা করেন।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, শাশুড়ি মেয়ে ও জামাইয়ের হাতে পবিত্র হলুদ সুতো বেঁধে তাঁদের দীর্ঘায়ু, সুখ এবং সমৃদ্ধ সংসার জীবনের আশীর্বাদ করেন। এরপর শুরু হয় পছন্দের খাবারে ভরপুর ভোজ এবং উপহার বিনিময়ের পর্ব। এই উপহার আদান-প্রদান শুধুমাত্র একটি সামাজিক রীতি নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। অনেকেই মনে করেন, শাস্ত্র বা জ্যোতিষ মতে শুভ উপহার দিলে তা সম্পর্কের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে রাশি বা জন্মতথ্য জানা না থাকলেও এমন অনেক উপহার রয়েছে, যা শুভ ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। যেমন—
১। ধর্মীয় সামগ্রী: যাঁরা আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী, তাঁদের জন্য ধর্মীয় উপহার অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। দেব-দেবীর ছবি, ধর্মীয় গ্রন্থ বা পুজোর সামগ্রী উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। এতে ঘরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
২। গাছপালা: বিভিন্ন শুভ গাছ যেমন মানিপ্ল্যান্ট, লাকি বাঁশ, স্নেক প্ল্যান্ট বা জেড প্ল্যান্ট উপহার দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। এগুলি ঘরের সৌভাগ্য ও শান্তি বৃদ্ধি করে বলে মানা হয়। পাশাপাশি ফুলের গাছও সুন্দর ও অর্থবহ উপহার হতে পারে।
৩। ঘর সাজানোর সামগ্রী: সুন্দর শোপিস, দেয়ালে ঝোলানোর ছবি, ক্রিস্টাল ডেকর আইটেম বা ঘর সাজানোর অন্য যেকোনো জিনিস উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। এতে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ে এবং উপহারের মূল্যও থাকে দীর্ঘস্থায়ী।
৪। মিষ্টিজাতীয় খাবার: মিষ্টির সঙ্গে শুভ শক্তি ও সৌভাগ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। ভালো মানের মিষ্টি উপহার দিলে সম্পর্কের মাধুর্য আরও বৃদ্ধি পায়।
৫। রুপোর গয়না: বাজেট অনুযায়ী শাশুড়িকে রুপোর গয়না উপহার দেওয়াও একটি ভালো বিকল্প। রুপোকে শুভ ও পবিত্র ধাতু হিসেবে ধরা হয়, যা পারিবারিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বিশ্বাস।
উৎসবের আনন্দের মাঝেই ছোট্ট একটি উপহার হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসা, সম্মান এবং পারিবারিক সৌহার্দ্যের এক সুন্দর নিদর্শন। তাই এ বছরের জামাইষষ্ঠীতে উপহার হোক শুধু রীতি পালনের জন্য নয়, বরং হৃদয়ের টান প্রকাশের এক বিশেষ মাধ্যম।
