
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ২৫ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত এই অধ্যায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। ঘটনার প্রায় পাঁচ দশক পর এবার প্রথমবারের মতো সেই জরুরি অবস্থার বিষয়টি জায়গা পেল ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর পাঠ্যবইয়ে। এর ফলে দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবার পড়ুয়ারাও পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে জানতে পারবেন।
জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় এনসিইআরটি-র নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইতে বদল আনা হয়েছে। তাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি’ নামে ওই পাঠ্যবইতে ইন্দিরার জারি করা জরুরি অবস্থাকে ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বইটিতে ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে জরুরি অবস্থা। এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র এনসিইআরটি-র দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়েই ভারতের ইতিহাসের এই বিতর্কিত অধ্যায়টি ছিল। এবার নবম শ্রেণির বইতেও সংযোজন হল।

বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জটি দেখা দিয়েছিল ১৯৭৫-৭৭ সালে জারি করা জরুরি অবস্থায়। ৭০-এর দশকে ইন্দিরার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনরোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং অনিয়মের অভিযোগের জেরে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।” আরও বলা হয়েছে, “১৯৭৫ সালের জুন মাসে দেশে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অজুহাতে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে। এ সময় জনগণের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়।বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রবল চাপের মুখে পড়ে। নাগরিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়ে যায়।” জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ওই পাঠ্যবইটিতে। কীভাবে তাঁর নেতৃত্বে গণ আন্দোলন বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করেছিল, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় যাঁরা এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘জরুরি অবস্থা ছিল আমাদের সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত। এ সময় জনগণের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল। মতপ্রকাশের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও আঘাত হানা হয়।”
Today, we pay homage to all those who steadfastly defended democratic values during one of the darkest chapters in India’s history, the Emergency.
— Narendra Modi (@narendramodi) June 25, 2026
The Emergency was a direct assault on our Constitution. It witnessed the suspension of civil liberties, curbs on freedom of…
