
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তারাতলা বিপর্যয়ের পর বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতল ও বিল্ডিংয়ের কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলার দুর্ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্ঘটনার দায় নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা-সহ একাধিক পুরসভা এলাকায় নির্মাণকাজ নিয়ে বিশেষ নজরদারির কথা জানান। শুভেন্দু অধিকারী জানান, কলকাতা, রাজারহাট-নিউ টাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর এবং বারুইপুর পুরসভা এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে তা অডিট করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নির্মাণকাজে কোনও ধরনের গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, নয়া এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, খলিল আহমেদ, রাজেশ সিনহা, রচনা ভগত, ডিজি বিল্ডিং, ডিজি ফায়ার, আইআইটি খগড়পুরের বিশেষজ্ঞ-সহ আরও বেশ কয়েকজন থাকবেন। এই কমিটি সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করবে। কমিটি সবুজ সঙ্কেত দিলেই ফের কাজ শুরু হবে। কিন্তু প্ল্যানে কোনও গলদ পাওয়া গেলেই সম্পত্তি শুধু বাজেয়াপ্ত করা নয়, অভিযুক্তদের একেবারে জেল খাটানোর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। দুর্নীতি ইস্যুতে যে রাজ্যের বিজেপি সরকার জিরো টলারেন্স নিয়েই চলবে তা আরও একবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, কাটমানি ইস্যুতে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। এটা আপনাদের পাপের ফল। একাধিক দুর্ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষা নেননি।” শুধু তাই নয়, তারাতলার অভিশপ্ত ওই গোডাউন প্ল্যানে যে ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে, তাও এদিন সামনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “প্ল্যানের অনুমোদনে আমিনুর শেখ (সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), নির্মলেন্দু সরকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), রঞ্জন দাসের (কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার) সই রয়েছে। রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই। কাউকে ছাড়া হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। কালীই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তারাতলা কাণ্ডের পর উদ্ধারকার্যে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স-সহ সকল উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
