
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নকে আরও গতি দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শিল্প করিডর তৈরি, গণপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লজিস্টিক হাব গড়ে তোলা এবং পর্যটন ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ—সহ একাধিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে সংস্থাটি। এই নিয়ে মঙ্গলবার নবান্নে এডিবির শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এডিবির দেওয়া প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পাঠানো হবে। এরপরই প্রস্তাবগুলি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এডিবি কর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রথম বাজেটেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহের শুরুতেই বিজেপি সরকারের প্রথম অর্থ বাজেট পেশ হয়। অর্থমন্ত্রী হিসাবে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের মতে, বাজেট পেশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এডিবি-র সঙ্গে বৈঠকের অর্থই হল, রাজ্য সরকার চায়, দ্রুত পরিকাঠামো বৃদ্ধির পথে হাঁটতে। যাতে শিল্পায়নের পথ আরও সুগম হয়।
নবান্ন সূত্রে খবর, এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে এডিবি। মঙ্গলবার চারটি ‘সিটি ইকোনোমিক রিজিয়ন’ বা ‘সিইআর’ গড়ে তোলার প্রস্তাব এডিবি কর্তারা দিয়েছে বলে খবর। এছাড়াও এডিবি আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে কলকাতা, ডানকুনি, দুর্গাপুর, আসানসোল ম্যানুফ্যাকচারিং করিডরের জন্য। রয়েছে হলদিয়া, খড়গপুর শিল্প করিডর এবং শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ করিডর। এছাড়াও ডানকুনি, কিংবা শিলিগুড়ি এবং হলদিয়াতে লজিস্টিকস হাব, পরিবহনে গতি আনতে ইলেকট্রিক বাসের ব্যবহারের বাড়ানো, পরিযায়ী শ্রমিক ও গরিবদের জন্য সস্তার ও ভাড়ার আবাসন তৈরি, বিভিন্ন পর্যটন ক্লাস্টার তৈরির প্রস্তাবে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে এডিবি।
