
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার বিকেলে ‘আসল তৃণমূল’-এর তরফে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায় যে, কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে পরে সাংবাদিক বৈঠকে সেই জল্পনায় জল ঢালেন ‘আসল তৃণমূল’-এর দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এদিনের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি এবং তাঁকে সাসপেন্ড করার বিষয়েও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই অবশ্য কড়া মন্তব্য করেন ঋতব্রত। তাচ্ছিল্যের সুরে তিনি বলেন, “কে অভিষেক? যাকে লোকে চোর পিটুনি দিয়েছিল?”
পালাবদলের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। একে একে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মমতার হাত ছেড়েছেন ৬৪ জনের বেশি বিধায়ক। ফলে পরিষদীয় দলের রাশ তাঁর হাতছাড়া হয়েছে। এনডিএকে সমর্থন করতে তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এনসিপিআই নামে একটি অচেনা দলের সঙ্গী হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় মমতার হাতছাড়া হয়েছে ছোট লালবাড়িও। মমতাকে আরও একা করে দিতে মরিয়া ঋতপন্থীরা। সোমবার পরিষদীয় দলের কায়দায় কাউন্সিলরদেরও নিজেদের শিবিরে টানতে নিউটাউনের নামী পাঁচতারা হোটেলে আয়োজন করা হয় বিশেষ অধিবেশনের। সেই বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। তারপরই শোনা গিয়েছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি সাসপেন্ড করা হয়েছে।
কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয় বলেই সাংবাদিক বৈঠকে বুঝিয়ে দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কে অভিষেক? যাকে চোরপিটুনি দিয়েছিল? না চাটার্ড অভিষেককে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” এতেই স্পষ্ট কালীঘাট তৃণমূলের ‘সেনাপতি’কে সাসপেন্ড করা হয়নি। তবে নতুন কমিটি অনুযায়ী এই মুহূর্তে দলের কোনও পদে নেই অভিষেক। উল্লেখ্য, শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়েছিল। তিনবছর পর তার মেয়াদ শেষে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় সেই কমিটি। দলের সাংবিধানিক সংকট কাটাতে তাই আজ তা নতুন করে গড়া হল বলেই জানিয়েছেন ঋতব্রত।
