International

2 years ago

UK asks China to stop spying :সামরিক তৎপরতা নিয়ে চীনকে লুকোচুরি বন্ধ করতে বলল যুক্তরাজ্য

British Foreign Secretary James Cleverley
British Foreign Secretary James Cleverley

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্য খোলাখুলি প্রকাশের জন্য চীনের প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এ ব্যাপারে লুকোচুরি করলে তাতে ‘মর্মান্তিক ভুল’ হয়ে যেতে পারে।

জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সম্প্রতি চীনের বিনিয়োগের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে লন্ডন। বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা বাড়ানো নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তারা। এরপর যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনের ম্যানশন হাউসে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিভারলি। ম্যানসন হাউসে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্ষিক বক্তব্যে সাধারণত পররাষ্ট্র নীতিমালাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়ে থাকে। তবে গতকাল ক্লিভারলি তাঁর বক্তব্যে সুদান ও ইউক্রেন থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সামান্য কথা বললেও বক্তব্যের বেশির ভাগজুড়ে তিনি শুধু চীনকে নিয়ে কথা বলেছেন।

ক্লিভারলি মনে করেন, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য যেমন খোলাখুলি থাকে, চীনেরও তাদের সামরিক তৎপরতার ব্যাপারে একই রকম আচরণ করা প্রয়োজন।

ব্রিটিশ এ কর্মকর্তা বলেন, ‘সামরিক তৎপরতা জোরদারের উদ্দেশ্য কী, তা একই রকমভাবে খোলাখুলি জানানোর জন্য আমি চীনের প্রতি আহ্বান জানাই। কারণ, স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সবার স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা যায়। আর গোপনীয়তার কারণে “মর্মান্তিক ভুলের” ঝুঁকি বাড়ে।’

তবে ক্লিভারলি মনে করেন, চীনকে একঘরে করে দেওয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, চীনের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, করোনা মহামারি প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত চীনের সঙ্গে দৃঢ় ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

তাইওয়ানপ্রশ্নে চীনকে সতর্ক করে ক্লিভারলি বলেন, দ্বীপটিতে আক্রমণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের শাসনকালে চীনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অবস্থান কেমন হবে, তা ক্লিভারলির বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে ঋষি সুনাক বলেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের শাসনাধীন যুক্তরাজ্য-চীন সম্পর্কের যে তথাকথিত ‘স্বর্ণ যুগ’ ছিল, তা এখন অতীত।

গত ছয় মাসে ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের নেতারা চীন সফর করেছেন এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটির সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বলছে, নিজেদের স্বার্থ ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে বেইজিংকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তারা। বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করার ক্ষেত্রে এসব হুমকি কমানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য।

চলতি বছর চীন সফরে যাওয়ার আশা করছেন ক্লিভারলি। তিনি বলেন, চীন যদি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তাদের কাছে এর জবাব চাওয়া হবে।

You might also like!