
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ 'স্যাটানিক ভার্সেস' এর প্রণেতা সলমন রুশদির উপর নির্মম হামলা চালিয়েছিল হাদি মাতার নামে এক যুবক। সেই ঘটনায় সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিল বিশ্ব বুদ্ধিজীবী মহল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ওপর হামলায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে পুরস্কার দিচ্ছে ইরানের একটি ফাউন্ডেশন।
পুরস্কার হিসেবে হামলাকারীকে এক হাজার বর্গমিটার কৃষিজমি দিচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি মঙ্গলবার তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ তথ্য জানিয়েছে। এটা তাদের পক্ষেই সম্ভব যাঁরা চূড়ান্ত উগ্র সাম্প্রদায়িক। সমস্ত বিশ্ব এই পুরস্কার প্রদানের নিন্দা করেছে।
'স্যাটানিক ভার্সেস' প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ইসলাম ধর্মের একটা উগ্র সাম্প্রদায়িক অংশ প্রবল ক্ষুব্ধ সলমন রুশদির উপর। ইরানের ওই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,রুশদির একটি চোখ অন্ধ করে এবং হাত অকেজো করে দিয়ে যিনি মুসলিমদেরকে খুশি করেছেন, তার এই সাহসী কাজের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে তাকে ধন্যবাদ জানাই।তিনি বলেন, রুশদি এখন জীবন্মৃত একজন মানুষের চেয়ে বেশি কিছু না। এই বীরোচিত কাজ যিনি করেছেন তার সম্মানার্থে তাকে কিংবা তার আইনি কোনো প্রতিনিধিকে প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার কৃষিজমি দান করা হবে। এই দানপর্ব নিয়ে অমুসলিম সম্প্রদায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে যদি সত্যি সলমন রুশদির লেখা মুসলিম সম্প্রদায়কে আঘাত করে থাকে,তাহলে আইনি প্রতিবাদ করা যেত। কিন্তু তা না করে যা করা হয়েছে,তা সভ্যতা বিরোধী।
প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৯৮ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি লেখক সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া ঘোষণা করেন। এছাড়া ইরান রুশদির মাথার দাম ৩০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল। রুশদির স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসকে মুসলিম ধর্মাবমাননা হিসাবেই দেখা হয়। গতবছর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন সালমান রুশদি। বুকারজয়ী এই লেখককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এক লোক দৌড়ে স্টেজে উঠে ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। ওই প্রবল আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় লেখক।
এতে রুশদির ঘাড়ে ও শরীরে জখম হয় বলে তখন নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ছয়সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ঘাড়ে ও পেটে অন্তত একবার করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরবর্তীতে রুশদি একচোখের দৃষ্টিশক্তিও হারান। অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলা হয়। সেই খুনের চেষ্টায় অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করলো ইরানের ওই ফাউন্ডেশন।
