
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক , পাকিস্তান : বিশ্ব অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, পাকিস্থানের ইতিহাসে এমন গভীর আর্থিক সঙ্কট আগে কখনো হয় নি। একটা 'রুটি'র জন্য হাজার মানুষের লাইন। সামান্য একটু খাবারের জন্য সম্মুখ সমরে পাকিস্থানের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা। ঠিক এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া হতে চলেছে পাকিস্থানে। পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমগুলিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে, পেট্রোলের দাম ১২.৮ শতাংশ বাড়তে চলেছে। যা পাকিস্তানের মূল্যে ৩২.০৭ টাকা। বর্তমানে পাকিস্তানে লিটার পিছু পেট্রোলের দাম ২৫০ টাকা। যা বেড়ে ২৮২ টাকা হতে চলেছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ১২.৫ শতাংশ বা পাকিস্তানের মূল্যে ৩২.৮৪ টাকা বাড়তে চলেছে। যার ফলে এক লিটার ডিজেলের দাম সেখানে পৌঁছে যাবে ২৯৫.৬৪ টাকায়। এখানেই শেষ নয়, কেরোসিন তেলের দাম ১৪.৮ শতাংশ অর্থাৎ পাকিস্তানের মূল্যে ২৮.০৫ টাকা বাড়তে চলেছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তানে কেরোসিনের দাম পৌঁছে যাবে লিটার পিছু ২১৭.৮৮ টাকায়। আর অর্থনীতি বলছে জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বাড়বে। শিহরিত পাকিস্থানের আপামর জনসাধারণ।
পাকিস্থানের আর্থিক সঙ্কটের মূলে আছে ওই দেশের ভঙ্গুর গণতন্ত্র। টাকার মূল্যের হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির আমদানিতে ব্যয়ও বাড়ছে দিনের পর দিন। বড় প্রভাব পড়েছে টাকার অবমূল্যায়নের জন্য। এর আগে পাকিস্তান সরকার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার পিছু ৩৫ টাকা বাড়িয়েছিল। সেই বৃদ্ধি নিয়ে পাকিস্থানের সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। শুধু পেট্রো-পণ্য নয়, অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।মাংস,দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্যের দাম সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধ ও মাংসের দামেই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানে দুধের দাম প্রতি লিটার ২১০ টাকা। এক কেজি মুরগির মাংসের দাম ৮০০ টাকা ছুঁই-ছুঁই। বোন লেস চিকেনের দাম পৌঁছে গিয়েছে প্রতি কেজি ১১০০ টাকায়। এই অবস্থায় দিশেহারা পাকিস্থানবাসী।
