
রবীন্দ্রকুমার শীলঃ ইংল্যাণ্ডের সরকারি ‘বিবিসি’ চ্যানেল থেকে বলা হযেে যে বিশ্বের একজন সেরা রাজনীতিবিদ ঋষি সুনক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন| তিনি বিলাতের বর্তমান আর্থিক অবস্থা বোঝেন| তিনি আগে অর্থমন্ত্রী ছিলেন| প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের খামখেযালী ফলে তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন| তবে বরিস জনসন একটি বড় কাজ করে গিযেিলেন সেটা হচ্ছে অক্সফোর্ডকে করোনা টিকা আবিস্কার করতে দেওযর সুযোগ গড়ে দেওযা| অক্সফোর্ড কোভিশিল্ড করোনা টিকা বের করে দেওযার ফলে বিশ্বের বহু করোনা রোগীরা উপকৃত হযেে| বিশ্বের সমস্ত রাষ্টগুলি এই কারণে বিলাতের কাছে ঋনী থাকবে| বর্তমান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিটা ভালো করে বোঝেন| সেই কারণে তিনি প্রথম থেকেই বলতে শুরু করে দিযেেন ভারতসহ এশিযার দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসা জোরদার করবেন| ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসাযি সম্পর্ক থাকবে বটে| কিন্তু ইউক্রেন এবং রাশিযা যুদ্ধ শুরু হযে যাওযার ফলে বর্তমান ইউরোপের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল নয| তার ফলে ব্রিটেনকে এখন এশিযা এবং আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসাযিক বৃদ্ধি তৈরি করতে চায| প্রযোজন হলে চিন এবং রাশিযার সঙ্গে ব্যবসা চালু করতে রাজি ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক| তিনি পরিস্কার করে বলে দিযেেন অর্থনীতির উন্নতির জন্য ব্রিটেন কাউকে শত্রু করতে চায না| বিশ্বের সব রাষ্ট্রগুলিই ব্রিটেনের বন্বুত্ব থাকবে| কারোর সঙ্গে এই মুহূুর্তে শত্রুতার সম্পর্ক নেই ব্রিটেনের| ভারতের সঙ্গে ব্রিটেন শক্তিশালী ব্যবসাযি সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে| ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনককে অভিনন্দন বার্তা দিযেেন| তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের ইতিহাসে নতু়ন সূর্যের উদয হলো|

আমেরিকার ‘দ্য নিউ ইর্যক টাইমস’ লিখেছে যে ঋষি সুনক অবশেষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন| তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব| তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহু সমযে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিযেিলেন| কিন্তু তিনি এবার ধৈর্য্য হারাননি| মনকে একেবারে শান্ত রেখে লড়াই করে গিযেেন| তার ফলেই তিনি আজকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন| আজ ব্রিটেন খুবই কঠিন অবস্থার মধ্যে দিযে চলছে| প্রধানমন্ত্রী সুনক বলেছেন তিনি সেসব কথা জানেন| ব্রিটেনের অর্থনীতি আগেকার মতো শক্তপোক্ত নেই| আবার একেবারে নড়বড়ে হযে যাযনি বটে| কিন্তু ব্রিটেনকে আর্থিক দিক দিযে শক্তিশালী করতে গেলে সব দেশের সঙ্গে ব্যবসাযিক সম্পর্ক বজায রাখতে হবে| কোনও দেশকে শত্রু করা চলবে না| প্রযোজন হলে ব্রিটেন রাশিযার সঙ্গে হাত মিলিযে ব্যবসা করতে পারে| জাতীয স্বার্থকে রক্ষা করতে যা যা করণীয তাই তিনি করতে থাকবেন বলে পরিস্কার করে দিযেেন| ‘ইকোনমিক টাইমস’ লিখেছেন যে সুনক আগে অর্থমন্ত্রকের দফতর সামাল দিযেেন| তিনি জানেন ব্রিটেনের আর্থিক রোগ কতখানি ক্ষত সৃষ্টি করেছে| তিনিই পারবেন ব্রিটেনের আর্থিক রোগকে একেবারে নির্মূল করে দিতে|

এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হযেে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী সুনকের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে| ব্যবসাযিক সম্পর্ক ছাড়ারও শিল্প সাহিত্য এবং সংস্ৃ্কতি সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে| আমেরিকার সরকারি চ্যানেল ‘ভযে অব আমেরিকা’ ঋষি সুনককে স্বাগত জানিযেেন| ‘ভযে অব আমেরিকা’ বলেছে, ভারতীয বংশোদ্ভূত একজন ইংল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী হওযার ফলে ভারততথা আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসাযিক সম্পর্ক গভীরভাবে গড়ে উঠতে থাকবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই| বর্তমানে আমেরিকার ভাইস ্প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও একজন ভারতীয বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক| সেই কারণে বলা যেতে পারে ভারত এবং আমেরিকার সঙ্গে নযা ব্যবসাযিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব|

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভারতীয বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক কমলা হ্যারিস অবস্থান করে রযেেন ঠিক তেমনি এবারে ইংল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন ঋষি সুনক| তিনি আগেও একবার চেষ্টা করেছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওযার| সেখানে ট্রাস এবং সুনকের প্রতিদ্বন্দ্বীতা চলেছিল| জযী হযেিলেন ট্রাস| কিন্তু ট্রাস বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী পদে বসে থাকতে পারেননি| ব্রিটেনের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ| বাজেট ঠিক মতো করা একেবারে অসম্ভব হচ্ছিল| তার ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন ট্রাস| ট্রাস প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতেই সেই স্থানে এসে উপস্থিত হলেন ঋষি সুনক| এখন ঋষি সুনকের সামনে বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ| বিলাতের আর্থিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে| ইউরোপীয ইউনিযন থেকে বের হযে যে ব্রিটিশ আর্থিক দিক দিযে শক্তিশালী হতে পারেনি তার প্রমাণ রযেে| তবে আবার ব্রিটেন ইউরোপীয ইউনিযনে প্রবেশ করতে চায না| তারা চায স্বাধীনভাবে আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে| কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো পরিস্থিতিটাকে একেবারে পাল্টে দিযেে| রাশিযা যেভাবে ইউক্রেন দখল করতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাতে মনে হচ্ছে না অতি দ্রুত যুদ্ধ থেমে যাবে| ইউক্রেনের যুদ্ধ যতদিন চলবে ততদিন ধরে ইউরোপের আর্থিক অবস্থা টালমাটাল থাকবে| আর্থিক দিক দিযে ইউরোপকে শক্তিশালী হতে গেলে সব ইউরোপীয দেশগুলিকে একটি ছাতার তলায এসে দাঁড়াতে হবে| তা না হলে কিন্তু ইউরোপের আর্থিক পরিকাঠামো একেবারে শিথিল হযে যাবে| রাশিযাকে বযকট করার ফলে ইউরোপ এখন জ্বালানি এবং তেল কষ্টে ভুগছে| এদিকে ইউক্রেন গোটা বিশ্বকে গম দিযে সাহায্য করে| ইউক্রেন আক্রান্ত হওযার ফলে আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ইউরোপে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করে দিযেে| ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক বলেছেন, তিনি ইংল্যাণ্ডকে আর্থিক দিক দিযে শক্তিশালী করতে বিশ্বের শিল্পপতিদের বিলাতে আমন্ত্রণ করবেন| বিশ্বের শিল্পপতিদের সাহায্য গ্রহণ করে শক্তিশালী ব্রিটেন গড়ে তোলার দিকে বিশেষ করে নজর দিতে চান|
