
ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি : ফের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর বড়সড় হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ১৪ টি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সোমবার এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ সোমবার এই প্রতিবেদককে জানান, “ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গা উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের ১২টি মন্দিরের বিভিন্ন দেব-দেবীর ১৪টি প্রতিমা ভাঙ্গচুর হয়েছে। এই ঘটনায় ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি। সাম্প্রদায়িক হামলায় আক্রান্ত তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে ধনতলা ইউনিয়নে বর্তমানে ৮০%; পাড়িয়া ইউনিয়নে ৭৫% এবং চাড়োল ইউনিয়নে ৪৫% হিন্দুদের বসবাস। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তীতে এই সকল এলাকায় এর পূর্বে কখনও এ ধরনের ঘটনা কেউ ঘটতে দেখেনি।”
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পনা করেই এই হামলা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। বাড়ানো হয়েছে এলাকার নিরাপত্তা। কোথাও মন্দিরের একাংশ, কোথাও আবার দেবদেবীর মূর্তি ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার পুকুরে ভাঙাচোরা অংশ দেখতে পেয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। বালিয়াডাঙ্গি থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “ঘটনার দু’দিন বাদেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঠাকুরগাঁও এর পুলিশ সুপারের সাথে আমি কথা বলেছি। উনি উনাদের তৎপরতার কথা জানালেন। আমরা উনাদের কথায় ভরসা রাখতে পারছি না। এই ধরনের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করলেও তাদের ছেড়ে জামিন দিয়ে দেওয়া হয়। কোনও বিচার হয় না। যদি দুই একটি ঘটনারও বিচার হত তাহলে এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন করবেন বলে কথা দিয়ে ছিলেন। অদ্যাবধি তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি।“
বালিয়াডাঙ্গির হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বৈদ্যনাথ বর্মনের কথায়, ”অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুষ্কৃতী এখানকার তিনটি ইউনিয়ন এলাকার ১৪টি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে। কোথাও কোথাও মূর্তি ভেঙে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। এই দুষ্কৃতী কারা, কেন এ কাজ করল, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তবে তাদের গ্রেফতার করে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমর চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ”এখানে বরাবর খুব সম্প্রীতির পরিবেশ। মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের সদ্ভাব রয়েছে। এর আগে কখনও হিন্দুদের উপর এত বড় হামলা হয়নি। বুঝতেই পারছি না, কারা এমনটা করল।” বালিয়াডাঙ্গি থানার ওসি খায়রুল আনম অবশ্য স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এটা পরিকল্পিত হামলাই। এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিঘ্নিত করাই উদ্দেশ্য ছিল দুষ্কৃতীদের। তবে অপরাধী যে-ই হোক, কঠোর শাস্তি পাবেই। এই আশ্বাসও দিয়েছেন ওসি।
এই প্রথম নয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানের উপর হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। কখনও কুমিল্লা, কখনও নওগাঁ, কখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ – মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। হিন্দুদের নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে। তবে এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হাসিনা সরকার। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা নিজে। অথচ সেসবের পরও ঠাকুরগাঁওয়ে এত বড় হামলা চলল।
