
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ এক বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে। ইতিমধ্যে আমেরিকা ও পশ্চিমের অনেক দেশ মৌখিকভাবে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়েছে। এই অবস্থান চিনের অবস্থান প্রথম থেকেই ছিল রাশিয়ার পক্ষে। এখন সেটা আর স্পষ্ট হলো। এখন শোনা যাচ্ছে রাশিয়াকে সহায়তা করতে যাচ্ছে বেইজিং।
ইতোমধ্যে জার্মানির মিউনিখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের ওপর রাশিয়াকে অস্ত্র সহায়তার অভিযোগ এনে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ব্লিঙ্কেন বলেন,চিন যদি রাশিয়াকে অস্ত্র সাহায্য করে তাহলে আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্টো তিরস্কার করেছে বেইজিং। ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।তিনি বলেন, এই দুই দেশেকে আলোচনার টেবিলে না বসিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ক্রমাগত সাহায্য করে যাচ্ছে।
এই নতুন জটিলতার অন্যতম কারণ হলো, এদিকে ইউক্রেন সফর করে এসেছেন জো বাইডেন। অন্যদিকে মস্কো সফরে যাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাশিয়ার পক্ষে চিনের এই অবস্থান কতদূর এগোতে পারে বিশ্লেষণ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। এই যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রথমে তুরস্ক ও পরে ভারত এই দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়াকে মৌখিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করে আসছে চিন। এখনো অস্ত্র দিয়ে সহায়তার নজির বা প্রমাণ মেলেনি।
তবে সম্প্রতি মিউনিখ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন দাবি করেন, রাশিয়াকে সহায়তার পরিকল্পনা করছে চিন।
তিনি আরো জানান,যে কোনো সময় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে তারা। সঙ্গে সঙ্গে চিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে,চিনের দিকে আঙ্গুল না তুলে ইউক্রেনের প্রতি আমেরিকার সহায়তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেন ইস্যুর সমাধান করা যায়। অথচ তারা দেশটিতে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। বেইজিং জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে সাধারণ বাণিজ্য করে যাচ্ছে রাশিয়া। তেল ও গ্যাসসহ অন্যান্য জিনিস আমদানি করছে চীন। ফলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে।
