
ব্রাসিলিয়া, ১০ জানুয়ারি : ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ভবন ও সুপ্রিম কোর্টে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে সেদেশের পুলিশ। তারা সবাই দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সমর্থক । এদিকে তাণ্ডবের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছেন লুলা। সেই সঙ্গে দোষীদের শাস্তি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার ফ্লোরিডার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলসোনারো। তবে ব্রাজিলের সরকারি ভবনগুলোতে আক্রমণের নিন্দা করেছেন তিনি। এক টুইট বার্তায় বলসোনারো জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, আইনকে সম্মান করা গণতন্ত্রের অংশ।
তিনি আরও বলেছেন, সরকারি ভবনগুলোতে যে আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা হল, ২০১৩ এবং ২০১৭ সালে বামদের দ্বারাও নিয়ম ভেঙে এ ধরনের কাজ করা হয়েছিল। সবসময় সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছেন জানিয়ে বলসোনারো বলেন, আমি সবসময় সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছি। আইন মেনে, গণতান্ত্রিক উপায়ে, স্বচ্ছতার সঙ্গে আমাদের পবিত্র স্বাধীনতাকে সম্মান ও রক্ষা করেছি।
প্রসঙ্গত, রবিবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ভবন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালালেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সমর্থকেরা। রবিবার তাঁরা একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন আক্রমণ করেন। ঘিরে ফেলা হয় ব্রাজিলের কংগ্রেস এবং সুপ্রিম কোর্টও। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ব্রাজিলের হলুদ, সবুজ পতাকা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে এগিয়ে যান। কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে তাঁরা ঢুকে যান ভবনের ভিতর। কাতারে কাতারে মানুষ জড়ো হন রাষ্ট্রপতি ভবনের ছাদে। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন বিশ্ব নেতারা । ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ভবন ও সুপ্রিম কোর্টে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে সেদেশের পুলিশ। তারা সবাই দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সমর্থক ।
উল্লেখ্য, কট্টর দক্ষিণপন্থী বোলসোনারোকে হারিয়ে ব্রাজিলে ক্ষমতায় এসেছেন বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। দেশের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই আক্রমণের জন্য তিনি পূর্বতন প্রেসিডেন্টকেই দায়ী করেছেন। রাজধানী ব্রাসিলিয়ার নিরাপত্তা বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লুলা। রবিবার ব্রাসিলিয়ায় যখন এই হামলা হয়, প্রেসিডেন্ট লুলা সেখানে ছিলেন না। রাজধানী থেকে দূরে কর্মসূত্রেই সাও পাওলো গিয়েছিলেন তিনি।
