
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মাসের সেই নির্দিষ্ট কয়েকটা দিন অনেক মহিলার কাছেই অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তলপেটে ব্যথা, কোমরে টান, মাথা ভার লাগা, খিটখিটে মেজাজ কিংবা অবসাদ— ঋতুস্রাবের সময় এই সমস্যাগুলি নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, এই সময়ে শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম করলে শারীরিক অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে হালকা যোগাসন করলে উল্টে মিলতে পারে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি।
চিকিৎসক ও যোগবিশেষজ্ঞদের দাবি, ঋতুচক্র চলাকালীন শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং হালকা স্ট্রেচিং ও সহজ কিছু যোগাসন শরীরকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। তবে কঠিন ব্যায়াম, ভারী আসন কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ এই সময়ে শরীরের শক্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরে এন্ডোরফিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। এই হরমোন প্রাকৃতিক ব্যথানাশকের মতো কাজ করে। ফলে পিরিয়ডসের সময় তলপেটের মোচড়, কোমরের ব্যথা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
∆ আরাম দেবে কোন কোন আসন?
১. বালাসন: এই আসনটি কোমর ও নিতম্বের পেশিকে শিথিল করে। ফলে তলপেটের ক্র্যাম্প থেকে দ্রুত আরাম মেলে।
২. মার্জারিয়াসন ও বিটিলাসন: মেরুদণ্ডের জড়তা কাটাতে এবং কোমরের নীচের অংশের পেশি সচল করতে এই আসন দারুণ কাজ করে। এটি তলপেটের অঙ্গে হালকা মালিশের মতো আরাম দেয়।
৩. ভুজঙ্গাসন: পিঠের পেশি মজবুত করার পাশাপাশি এটি পেলভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পিরিয়ডসের মোচড়ানো ব্যথা শান্ত হয়।
∆ আর কী করবেন?
যোগাসনের পাশাপাশি আদা, ক্যামোমাইল বা পেপারমিন্টের মতো ভেষজ চা এই সময়ে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়া তলপেটে হট ওয়াটার ব্যাগের গরম সেঁক দিলে পেশি শিথিল হয় ও অস্বস্তি অনেকটাই কেটে যায়। প্রাচীন এই আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমিয়ে নারীদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি— শরীরের কথা শুনতে হবে। কোনও আসন করতে গিয়ে অতিরিক্ত অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। তাই পিরিয়ডসের দিনগুলিতে শরীরকে জোর না করে, বরং তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই যোগাভ্যাস করলে কষ্টের সময়টাও অনেকটা সহজ হয়ে উঠতে পারে।
