Entertainment

1 hour ago

Tribute in Sand: সুরের দেবীকে বালুকাশিল্পে শ্রদ্ধাঞ্জলি—পুরীর সৈকতে ২০ ফুট বীণায় উদ্ভাসিত কিংবদন্তি গায়িকা

20-feet-long Veena sand art created at Puri Beach as a tribute to Asha Bhosle
20-feet-long Veena sand art created at Puri Beach as a tribute to Asha Bhosle

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হলেও তাঁর সুর আজও অনন্ত—১২ এপ্রিল প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে-র স্মরণে পুরীর সমুদ্রসৈকতে তৈরি হলো এক অভিনব শিল্পকর্ম। বিশিষ্ট বালুকাশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েকের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ ফুট লম্বা এক বিশাল বীণা, যা এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

জগন্নাথ ধামের এই সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা বালুর বীণাটি যেন সুরেরই প্রতীক—যেখানে খোদাই করে লেখা,‘আশা তাই-কে শ্রদ্ধাঞ্জলি। আপনার কণ্ঠ চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।’ শিল্পকর্মটি তৈরি হওয়ার সময় থেকেই সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই ভিড় জমেছে দর্শকদের। শুধু একক প্রচেষ্টায় নয়, সুদর্শন পট্টনায়েকের সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও এই কাজে অংশ নিয়েছেন। শিল্পীর কথায়,“আমরা আশাজির গান শুনেই বড় হয়েছি। ওঁর কণ্ঠ আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে”। উল্লেখ্য, সমাজ সচেতনতার নানা বার্তা—এইডস,কোভিড-১৯, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো একাধিক সচেতনতার বার্তা তাঁর বালুকাশিল্পের মাধ্যমে সমাজের উদ্দেশ্য দিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৪৩ সাল থেকে প্রায় আট দশকব্যাপী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি হিন্দি-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন। অসংখ্য ছায়াছবির গান ও অ্যালবাম রেকর্ড করেছেন, যা তাঁকে এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা ও স্বীকৃতি। 

১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি মোট সাতবার ফিল্মফেয়ার সম্মানে ভূষিত হন। তবে তিনি জানান, তাঁর নাম যাতে আর এই বিভাগে বিবেচনা না করা হয়। ২০০১ সালে ‘ফিলমফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পান তিনি। সঙ্গীতজগতে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য ২০০০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও, ২০০৮ সালে তিনি পান দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। সঙ্গীতজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে আশা ভোঁসলের নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিল্পী চলে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর সুর থেকে যাবে চিরকাল—পুরীর বালুর বীণায় সেই অমর সঙ্গীতেরই প্রতিধ্বনি যেন আজও ভেসে আসছে।

You might also like!