
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনৈতিক উত্তেজনায় যখন গোটা দেশ মুখিয়ে নির্বাচনের ফলাফলের দিকে, ঠিক সেই সময়েই এক অনুপ্রেরণাদায়ক খবরে আলোড়ন পড়ল দেশজুড়ে। স্বল্পমূল্যের স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির উদ্যোগে গ্রামীণ ভারতে বিপ্লব ঘটানো সমাজ উদ্যোক্তা অরুণাচলম মুরুগানান্থম জায়গা করে নিয়েছেন ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনীতদের তালিকায়।
৩ মে রবিবার নিজেই এই সুখবর ভাগ করে নেন তিনি। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এমন স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত ‘বাস্তবের প্যাডম্যান’। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান,“প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। এই পুরস্কারের জন্য আপনি নিজে বা আপনার বন্ধু-পরিবার কেউই নাম নথিভুক্তকরণের সুযোগ পায় না। এটি সম্পূর্ণ তৃতীয় পক্ষের সিদ্ধান্ত। পন্ডিচেরির অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালের ডিন এবং সেখানে কর্মরত আমেরিকান দল আমার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা গ্রহণ করা হয়। এই ঘটনায় আমি সত্যিই গর্বিত।”
উল্লেখ্য, মাত্র প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েই জীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন মুরুগানান্থম। ২০০৪ সালে তিনি এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে অতি কম খরচে স্যানিটারি প্যাড তৈরি সম্ভব হয়। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার অসংখ্য নারী স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পান। তাঁর এই অসাধারণ অবদানের জন্য আগেই একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী এবং ‘আইআইটি মাদ্রাজে ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের গ্রাসরুট টেকনোলজিক্যাল ইনোভেশনস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন । সর্বোপরি, তিনি একজন স্কুল ছুট ব্যক্তি, যাঁর কোনও ডিগ্রিও নেই। তবুও বিশ্বজোড়া খ্যাতি বাস্তবের ‘প্যাডম্যান’ অরুণাচলম মুরুগানান্থমের।

মুরুগানান্থমের জীবনকাহিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলিউডকেও। পরিচালক আর.বালকি তাঁর জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেন ‘প্যাডম্যান’। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন অক্ষয় কুমার। এই ছবিও জাতীয় পুরস্কারে সেরা ছবির সম্মানে সম্মানিত হয়েছিল। পাশাপাশি ছিলেন রাধিকা আপ্তে ও সোনম কাপুর। নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। যদিও নোবেল শান্তি পুরস্কার এখনও চূড়ান্ত নয়, তবুও মনোনয়নটুকুই অরুণাচলম মুরুগানান্থমের জীবনের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করল তা বলাই বাহুল্য। ছোট্ট এক গ্রামের উদ্ভাবক থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতির দোরগোড়ায় পৌঁছনো—অরুণাচলম মুরুগানান্থম-এর এই যাত্রা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক, তাঁর এই মনোনয়নই ইতিমধ্যেই গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে দেশের কাছে।
